ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত: তিশাসহ নাটকের কুশলীদের বিরুদ্ধে নোটিশ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৯ পিএম

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তিশাসহ নাটকের করা কুশলীদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে লিটন কৃষ্ণদাস নামের একজন সনাতনধর্মী। তিনি তিশা অভিনীত ‘বিজয়া’ নাটকের মাধ্যমে সনাতনী সম্প্রদায়কে কটাক্ষ এবং ধর্মান্তরকরণ ও সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেয়ার অভিযোগ তুলে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, সহ-অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজকের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশও পাঠিয়েছেন। ১২ অক্টোবর, সোমবার লিটন কৃষ্ণদাসের পক্ষে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী সুমন কুমার রায়।

তিনি বলেন দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্মিত ‘বিজয়া’ নামের নাটকে সনাতনী সম্প্রদায়ের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। সে জন্য এ নাটকের অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ, রচনাকারী সালেহ উদ্দীন সোয়েব চৌধুরী (গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া নাম শোয়েব চৌধুরী) ও পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ ভূঁইয়াকে (গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া নাম আবু হায়াত মাহমুদ) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে আইনজীবী সুমন উল্লেখ করেছেন, ‘‘আমার মক্কেল বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়া ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছেন আপনি শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ‘বিজয়া’ নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছেন। ওই নাটকের ট্রায়াল ভার্সন বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে লাখ লাখ সনাতনী সম্প্রদায় অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে নাটকটি দেখার জন্য ব্যাকুল হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নাটকটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় যে, এ নাটকটিতে সুক্ষ্ন ও তীক্ষ্ণ সনাতন ধর্মাবলম্বী নারীদের চরিত্র হনন করা হয়েছে এবং সনাতন পুরুষদের মদ্যপ, নিষ্ঠুর আচরণকারী, অক্ষম ও উদাসীন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যার মাধ্যমে অত্যন্ত সুক্ষ্ন ও পরিকল্পিতভাবে পরকীয়া ও ধর্মান্তরকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

‘‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্মিত ‘বিজয়া’ নাটকটির ট্রায়াল ভার্সন ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, যা সারা বিশ্বের বিনোদনপ্রেমীদের কাছ থেকে সমালোচিত হয়েছে। ‘বিজয়া’ নাটকটির ট্রায়াল ভার্সন পর্যবেক্ষণ করে বিশ্বের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বী চরমভাবে হতাশ, মারাত্মক মর্মাহত আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারই ব্যাপক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এ বিতর্কিত নাটকটি সনাতনী সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে সুপরিকল্পিতভাবে আঘাত করেছে। নাটকটিতে সাম্প্রদায়িক মনোভাব স্পষ্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিমধ্যে এ নাটকটি ট্রায়াল ভার্সন প্রত্যাহার ও নাটকটি সর্বমহলে বয়কটের দাবি উঠেছে। স্বজ্ঞানে সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেয়ার মানসে ও সনাতন ধর্ম অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিপ্রায়ে পরস্পর যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে এ বিতর্কিত নাটকটি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় নোটিশে।

আইনজীবী সুমন বলেন, ‘নাটকটির ট্রায়াল ভার্সন সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে আমার মক্কেলও লাখ লাখ সনাতন ধর্মাবলম্বীর মতো মর্মাহত ও হতভম্ব, হতবাক ও আহত হয়েছেন। এই নির্মিত নাটকটি সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিসহ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নাটকটি বর্তমান আকারে ও প্রকারে যদি প্রচারিত হয় তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আমার মক্কেল লাখ লাখ সনাতন সম্প্রদায়ের পক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবেন।’

লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের (১২ অক্টোবর থেকে শুরু) মধ্যে সনাতন সম্প্রদায়ের ভাবাবেগ ও সনাতন ধর্ম অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিতর্কিত ‘বিজয়া’ নাটকটি প্রত্যাহার করতে নোটিশে উল্লিখিত অভিযুক্তদের প্রতি বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে দেশে প্রচলিত যেকোনো দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের আশ্রয় নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

এদিকে নাটকের পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ জানিয়েছেন তিনি কোনো রকম আইনি নোটিশ পাননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত