পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিয়ে সম্প্রতি হাইকোর্টের দেওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারক, আদালত ও বিচার বিভাগে দুর্নীতির বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও আদেশের কিছু অংশ বাদ দিয়েছে আপিল বিভাগ। গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য জানান।
এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট রিট মামলার রায়ে কোর্ট অব সেটেলমেন্টের তৎকালীন বিচারক, আদালত ও বিচার বিভাগ সম্পর্কিত হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণসমূহ এবং আদেশ অংশের কতিপয় নির্দেশনা কর্তন করেছেন।
সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে আপিল বিভাগ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে হাইকোর্টের ওই রায়ের কোন কোন নির্দেশনা কর্তন করা হয়েছে সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেননি সাইফুর রহমান।
পরিত্যক্ত সম্পত্তি নিয়ে করা এক রিট মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় গত ২ অক্টোবর। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক-আল-জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের পর্যবেক্ষণে বলে, দুর্নীতিমুক্ত বিচার বিভাগ ছাড়া আইনের শাসন কল্পনাও করা যায় না। রায়ে ঢাকার কাকরাইলের সাড়ে ১৬ কাঠা জমি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে ১৯৯৫ সালে ঢাকার প্রথম সেটেলমেন্ট আদালতের রায়কে কল্পিত, জালিয়াতি, অসৎ অভিপ্রায়, স্বেচ্ছাচারী, প্রতারণামূলক ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়। প্রায় ২৫ বছর আগের ওই রায়ের বিরুদ্ধে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের করা রিট আবেদনটি মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এ রায় দেয়।
হাইকোর্ট বলে, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের দুর্নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। বিচার বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন তাহলে আইনের শাসন বই-পুস্তকেই সীমাবদ্ধ থাকবে। দুর্নীতিমুক্ত বিচার বিভাগ গড়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ না করলে ভালো বিচারকদেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সমূহ শঙ্কা দেখা যাচ্ছে।
হাইকোর্ট আরও বলে, মানুষের আশা-আকা•ক্ষার সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ। আমরা বিচার বিভাগ ব্যর্থ হলে জনগণ বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হবেন, যেটি কল্পনাও করা যায় না। দুর্নীতিমুক্ত বিচার বিভাগ আইনের শাসনের অন্যতম শর্ত। দুর্নীতিমুক্ত বিচার বিভাগ ছাড়া আইনের শাসন কল্পনাও করা যায় না। সুতরাং এখন সময় এসেছে জনগণের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের আমূল সংস্কার করে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা।
রায়ে আরও বলা হয়, বিচার বিভাগের সব বিচারককে যদি দুর্নীতিমুক্ত রাখতে হয় তাহলে সব দুর্নীতিবাজ বিচারককে চিহ্নিত করে অনতিবিলম্বে তাদের উপড়ে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে।
