লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মানসিক প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগে সুমন (২৬) নামে এক যুবক আটক হয়েছে। ধর্ষণের অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে সুমনকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরপাতা ইউপি এলাকায়। অভিযুক্ত সুমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার দর্জি দোকানের কর্মচারী।
এ ঘটনায় বুধবার মেয়েটির বাবা রিকশাচালক কামাল হোসেন বাদী হয়ে সুমনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।
বুধবার সকালে ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য সদর হাসপাতালে এবং যুবককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারকের কাছে জবানবন্দী দিতে আদালতে পাঠানো হবে বলে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ জানান।
মেয়েটির বাবা জানান, প্রায় এক বছর ধরে তার প্রতিবন্ধী স্কুলপড়ুয়া মেয়েটির সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সুমন। ১১ অক্টোবর কৌশলে মেয়েটিকে তার ঘর থেকে ডেকে সুপারি বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে সুমন।
তিনি জানান, সুমন তার ফুফাতো ভাই রুমানকেও ডেকে নিয়ে আসে মেয়েটি ধর্ষণ করতে। তবে রুমান ধর্ষণ না করেই বাড়ি চলে যায়। ধষর্ণের সময় বাড়ির অন্য এক লোক ঘটনাটি দেখে সুমন ও মেয়েটিকে হাতেনাতে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ বাড়ির লোকদের অবহিত করে।
পরদিন সোমবার দুপুরে মেয়ের বাবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে তিনি সুমনকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে আটক করে ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে বসিয়ে রেখে পরে ছেড়ে দেন। মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও তাকে বিয়ে করার জন্য সুমনসহ বাবা-মাকে অনুরোধ করেন ইউপি সদস্যসহ বাড়ির লোকজন। তবে সুমন মেয়েটিকে বিয়ে করা যাবে না বলে বের দেয় তার বাবাকে।
মেয়ের বাবা রায়পুর থানা পুলিশকে অবহিত করলে সুমনকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়।
আটকের আগে এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সুমন বলেন, আমি ধর্ষণে জড়িত না। মেয়েটিকে রুমান নামের এক ছেলে ধর্ষণ করেছে। আমি মেয়েটিকে বিয়ে করব কেন? মেয়েটিকে মারধর করে আমার নাম বলতে বলায় সে আমার নাম বলেছে।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও রুমানকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের মোবাইল নম্বরে বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল জলিল বলেন, প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েটির জবানবন্দী অনুযায়ী ধর্ষণের মামলা রেকর্ড করেছি। বুধবার সকালে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য সদর হাসপাতাল ও জবানবন্দীর জন্য আদালতে পাঠানো হবে। সঙ্গে আটক সুমনকে ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
