ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞায় চাকরি হারিয়ে ফিলিস্তিনি নার্সদের বিক্ষোভ

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৯ পিএম

ইসরায়েলের আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় পড়ে চাকরি হারানো ফিলিস্তিনি নার্সেরা বিক্ষোভে নেমেছেন। কয়েক দশক ধরে তারা জেরুজালেমের হাসপাতালে চাকরি করতেন বলে আলজাজিরা জানিয়েছে।

বুধবার গাজা শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন সাতজন নার্স। জেরুজালেমের মাকাসেদ হাসপাতালে ২০ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন তারা। তাদের হাতে ছিল ‘চাকরিচ্যুত করা আমাদের পেশা ও পরিবারের জন্য মৃত্যুদণ্ড দেয়া’ – লেখা প্ল্যাকার্ড।

ইসরায়েলের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান গাজার বাসিন্দা এসব নার্স। ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন হামাস নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইহুদি রাষ্ট্রটি, এমনকি ওয়ার্ক পারমিট থাকা ব্যক্তিরাও এখন ইসরায়েলে ঢুকতে পারছেন না। ফলে কর্মস্থলে উপস্থিত হতে না পারায় চাকরিচ্যুত হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।

বাহের লুলু নামে ৫৩ বছর বয়সী একজন নার্স বলেন, ‘আমাদের আয়ের ওপরই পরিবার নির্ভরশীল। কোনোভাবেই আমরা আশা করিনি যে, আমাদের নির্বিচারে চাকরিচ্যুত করা হবে।’

সংকটপূর্ণ রোগীদের সেবা দেয়া এ নার্স ৩০ বছর ধরে মাকাসেদ হাসপাতালে কর্মরত। তিনি যখন হাসপাতালটিতে যোগ দেন তখন গাজা থেকে জেরুজালেমে যেতে ইসরায়েলি প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন হতো না।

ইসরায়েলি আগ্রাসনে সীমানা-বিভক্ত হয়ে পড়া ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজার মানুষের জন্য ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছিল ইহুদি রাষ্ট্রটি।

১৯৮৭ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত প্রথম ইন্তিফাদার আগে সহজে ফিলিস্তিনের মানুষ ইসরায়েলে কাজের জন্য যেতে পারতেন। এরপর থেকে দিন দিন কঠোরতা আরোপ করা শুরু করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

এর মধ্যে ২০০৭ সালে গাজায় হামাস সরকার গঠন হলে ফিলিস্তিনি অঞ্চলটির ওপর অবরোধ দেয় ইসরায়েল। এতে নিরাপত্তা ইস্যুতে সীমান্ত চলাচলেও কড়াকড়ি চালু করে ইহুদি রাষ্ট্রটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত