সোনারগাঁ উপজেলার বারদী ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের বাবুল ও তার পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। সাধারণ মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে নিরীহ মানুষকে মারধরসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। কেউ এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেলেই নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন, হামলা, মামলা এমনকি প্রাণনাশের হুমকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বারদী ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে বিএনপি সমর্থক জসিম উদ্দিন ভূইয়া, লায়ন মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বাবুল ও আমিনুল ইসলাম ভূইয়াসহ তার পরিবারের সদস্যরা কৌশলে আওয়ামী লীগে ‘অনুপ্রবেশ’ করে আওয়ামী লীগের কর্মী পরিচয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছে।
ইউনিয়নের গোয়ালপাড়ার জালাল মিয়া ওরফে দুলু মিয়ার ছেলে আয়াত আলী জানান, তাদের বসতবাড়ির জায়গা জোরপূর্বকভাবে দখল করে বাবুল ভূইয়া তাদের বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করেছে।
এছাড়া গোয়ালপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়িঘর দখল করে নেয় বাবুল ও তার লোকজন। অর্থ ও ক্ষমতার দাপটে তারা একের পর এক অপকর্ম করে গেলেও কেউ তাদের কিছুই করতে পারে না বলে জানান ভুক্তভোগী আনোয়ার।
গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা কাজী রফিকুল ইসলামের ছেলে বাপ্পি জানান, তার বাবা মারা যাওয়ার পর বাবুল ও তার পরিবারের লোকজন রফিকুল ইসলামের জায়গা তাদের দাবি করে রফিকুলকে কবর দিতে বাধা দেয়।
আলী আকবর হোসেন নামে এক গরু ব্যবসায়ী বলেন, তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা মূল্যের একটি গরু কিনে এখনো টাকা পরিশোধ করেনি বাবুল। পাওনা টাকা চাইতে গেলে উল্টো তাকে মারধরের শিকার হতে হয়।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বাবুলের বড় ভাই জসিম ভূইয়ার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় তিনটি বিস্ফোরক ও চেক প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ১০-১২ বছর আগেও বাবুল গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। চাকরি ছেড়ে এখন হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছেন। বর্তমানে তার নিজ গ্রামে বিলাসবহুল বাড়ি আছে।
এসব বিষয়ে লায়ন মাহবুবুর রহমান বাবুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার পরিবার ষড়যন্ত্রের শিকার। একটি কুচক্রীমহল পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে। আমার পরিবারের কোনো সদস্য অত্যাচার অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, থানায় নতুন যোগদান করেছি। পরিবারটির নামে কী মামলা আছে খোঁজখবর করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
