কিশোরীকে দেড় মাস আটকে রেখে নির্যাতন

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২০, ০১:১৯ এএম

রাজধানীর দক্ষিণখান থেকে এক কিশোরীকে অপহরণের পর দেড় মাস আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অপহৃত ওই কিশোরীকে (১৩) গত রবিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার কালাদী থেকে উদ্ধার করে র‌্যাব-১। এ সময় অভিযুক্ত মো. শাকিল (২২) ও তার সহযোগী মো. জাকির হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন কিশোরীর বাবা।

র‌্যাব জানায়, ওই কিশোরীকে অপহরণ করে দীর্ঘদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণখানের আশকোনা আইসক্রিম ফ্যাক্টরির সামনে থেকে অপহরণের এ ঘটনা ঘটে। পরে কিশোরীর বাবা দক্ষিণখান থানায় অপহরণ মামলা করেন। র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল শাফী উল্লাহ বুলবুল জানান, গ্রেপ্তার শাকিল তার পরিবারসহ দক্ষিণখান এলাকাতেই থাকে। দীর্ঘদিন ধরে থেকে সে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রাজি না হওয়ায় তাকে অপহরণের পরিকল্পনা করে শাকিল। ঘটনার দিন সহযোগীদের নিয়ে ভিকটিমকে কৌশলে বাসা থেকে বের করে তুলে নেয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বুলবুল আরও জানান, অপহরণের পর শাকিল তার চাচা আবুল কালামের সহায়তায় ভিকটিমকে নিয়ে পিরোজপুর চলে যায়। সেখানে মৌলভী ডেকে ভিকটিমকে জোরপূর্বক মৌখিকভাবে বিয়ে করে। ওই কিশোরীকে তার সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতে বাধ্য করে। এরপর গত ৪ অক্টোবর কালাম নারায়ণগঞ্জে নিজ বাড়ির কাছে একটি টিনশেড রুম ভাড়া করে তাদের সেখানে নিয়ে আসে। ভিকটিমের বাবা-মা তাকে খুঁজে না পেয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে শাকিলের বাসায় খোঁজ করলে অপহরণের বিষয়টি জানতে পারেন। বিষয়টি শাকিলের বাবাকে জানালে তিনি উল্টো কিশোরীর মা-বাবাকে হুমকি দেন এবং বলেন, ‘তাদের মেয়ে ভালো আছে। সে স্বেচ্ছায় গেছে।’ মেয়ের নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তা করে কিশোরীর বাবা থানায় অভিযোগ না করে স্থানীয়দের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। তাতেও কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় মামলা করেন। পরে রূপগঞ্জ থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে তাদের কাছে হস্তান্তর করে র‌্যাব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত