দেড় যুগ আগে সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার বিচার কার্যক্রম ফের শুরু হলেও সাক্ষীকে জেরা করেনি আসামিপক্ষ।
বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর বাদীর জেরাপর্ব শুরুর আদেশ দিলেও অস্বীকৃতি জানায় আসামিপক্ষ।
আসামিপক্ষ জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন তারা। এর আগে হাইকোর্টের আদেশে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়।
সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ জানান, ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূকে দেখতে আসেন। তিনি ঢাকায় ফেরার পথে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দীন বাদী হয়ে উপজেলা যুবদলের সভাপতি আশরাফ হোসেনসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ৭০-৭৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় ব্যর্থ হয়ে আদালতে মামলা করেন।
তিনি জানান, পরে আদালতের নির্দেশে এক যুগ পর ২০১৪ সালের ১৫ অক্টোবর কলারোয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। এরপর ২০১৫ সালের ১৭ মে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে ৩০ জনকে সাক্ষী করে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেখ সফিকুর ইসলাম। মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ চান আসামিরা।
চলতি বছর ২২ অক্টোবর উচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে ৯০ কার্যদিবসে বিচারকাজ শেষ করার আদেশ দেয়। সেই মামলায় আজ বাদীকে জেরা করার আদেশ দেয় আদালত।
