বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ভিসি অধ্যাপক ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন ববিতে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পূর্ণ হলো শুক্রবার।
শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলায় ছাত্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. ইমামুল হককে অপসারণ করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাস উপাচার্য নিয়োগ না হওয়ায় বাতিল হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। একই সময় রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পদ শূন্য হওয়ায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। তখন দায়িত্বগ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।
নতুন কর্মস্থলে যোগদানের দিন তিনি কারো কাছ থেকে ফুল গ্রহণ করেননি। বলেছিলেন, ভালো কাজ করলে বিদায়ের দিন কেউ ফুল দিলে তা গ্রহণ করবেন। উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর আটকে থাকা ভর্তি পরীক্ষা দ্রুততার সঙ্গে সফলভাবে সম্পন্ন করেন। হাতে নিয়েছেন মাস্টারপ্ল্যান। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব চাকরির বিধিমালা, আবাসিক নীতিমালা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম গতিশীল করতে টিএসসি নীতিমালা প্রণয়ন করেন।
শিক্ষার্থী দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ফি ও জরিমানা কমোনার জন্য গঠন করেছেন কমিটি।
একাডেমিক ক্যালেন্ডার রিভিউ করে সেশনজট নিরসনের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি গবেষণা খাতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে নিয়েছেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রবর্তনের উদ্যোগ। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে ৫০ একর ক্যাম্পাসে নানান প্রজাতীর ২৩ শ বৃক্ষ রোপন কর্মসূচীও শুরু করেন উপাচার্য।
করোনায় জরুরী টেলি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশী বিশ্ববিদ্যালয়ের হতদরিদ্র, অস্বচ্ছল শিক্ষার্থী ও চুক্তিভিত্তিক (কানামনা) কর্মচারীদের জন্য নিয়েছেন বহুমুখী পদক্ষেপ। ক্যাস্পাস বন্ধ থাকায় দৈনিক মজুরী ভিত্তিত ৭১ কর্মচারীকে ১ মাসের বেতন সমপরিমাণ ৭ লাখ ২ হাজার ৯ শ টাকার আর্থিক অনুদান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ বিভাগে দেড় শতাধিক অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের তিন লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ক্রান্তিকালে দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। দীর্ঘদিনের একাডেমিক প্রশাসনিক অচলাবস্থা সচল করে সুষ্ঠুভাবে ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এরপরেই করোনার আঘাত। কিন্তু তিনি এক দিনের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেননি। করোনাকালে শিক্ষার্থীদের জন্য মেডিকেল সেবা, আর্থিক সহায়তা, সেশন জট কমাতে অনলাইন ক্লাস মনিটরিংসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন’
এক বছরে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছেন জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন বলেন, করোনার কারণে সব কাজ সীমাবদ্ধ হয়ে আছে, দৃশ্যমান হচ্ছে না। একাডেমিক ক্যালেন্ডার রিভিউ করে সেশনজট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছি। ছাত্রদের বিভিন্ন ফির জরিমানা কমোনার জন্য কমিটি গঠন করেছি, শিক্ষার্থীদের বাস ক্রয়ের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে, টিএসসির মাধ্যমে সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষে নীতিমালা সম্পন্ন করেছি। আধুনিক মানের লাইব্রেরি, একাডেমিক ভবন, অডিটোরিয়াম, আবাসিক হল বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-গবেষণা ও সহশিক্ষায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠবে জানিয়ে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
