এতবার মৃত্যুকে জয় করেছেন তিনি, মৃত্যু এখন তার কাছে ছেলেখেলার মতো কিছু যেন। নাৎসি ষড়যন্ত্রে মৃত্যুর সম্ভাবনা থেকে শুরু করে, বিমান দুর্ঘটনা, ক্যান্সার এবং একেবারে শেষে করোনাকে হারিয়ে দিলেন তিনি। পালন করলেন ১০০তম জন্মদিন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানায়, ১৯২০ সালে উত্তর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মৃত্যুঞ্জয়ী নারী জন অ্যন্ড্রু। রবিবার পরিবারকে নিয়ে শতবর্ষ পূরণ উদ্যাপন করেন তিনি।
জন্মদিনে ব্রিটিশ রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয় থেকে শুভেচ্ছা কার্ডও পেয়েছেন অ্যান্ড্রু। তার মেয়ে ৫৭ বছর বয়সী মিশেল অ্যান্ড্রু জানান, তার মাকে নিয়ে তিনি গর্বিত। তার অসাধারণ সৌন্দর্যময় জীবন এক মাইলফলক।
শুধু সৌন্দর্য্ময়ই নয়, দারুণ এক সংগ্রামী জীবন এ ব্রিটিশ নারীর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ বিমানবাহিনীতে যোগ দেন অ্যান্ড্রু। ‘দ্য বোম্বার কমান্ড’-এ দীর্ঘদিন নিযুক্ত ছিলেন তিনি।
জার্মান-ইহুদি বংশোদ্ভূত অ্যান্ড্রুর একসময় বদলি হয়ে যান জার্মানির শহর ডুসেলডর্ফে। সেখানে যে পরিবারের সঙ্গে উঠেছিলেন, তাদের একমাত্র মেয়ে ছিল নাৎসি সমর্থক। এমনকি অ্যান্ড্রুর গাড়িচালকও ছিলেন নাৎসি। একদিন সেই গাড়িচালক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অ্যান্ড্রুকে মারার পরিকল্পনা করেছিল। সে যাত্রায় কোনোমতে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি।
এরপর ব্রিটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজের বিমানসেবিকা হয়ে কাজ শুরু করেন। তখন লিবিয়াগামী একটি ফ্লাইটে জ্বালানি বিভ্রাট ঘটায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে তার বিমান। এক যাত্রীর মৃত্যু হলেও সেই যাত্রায় বেঁচে যান তিনি।
কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তার সমানে আসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৯৭০ সাল নাগাদ তার স্তন ক্যানসার ধরা পড়ে। কিন্তু সেবারেও চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
এরপর মধ্যে গত বছর জুড়ে করোনা মহামারি শুরু হলে তাতে আক্রান্ত হন অ্যান্ড্রু। জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে গত মে মাসে তার দেহে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়।
পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হলে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে করোনাকেও হারিয়ে দিলেন তিনি। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন অ্যান্ড্রু। এরপর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কাটে জন্মদিনের কেক।
