প্রথম অধ্যায়, সৃজনশীল-৩
(গত সংখ্যার পর)
৩. সিদ্দিক সাহেব সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সুযোগ পেলেই তিনি ছেলে রাজন এবং মেয়ে শ্রাবণীকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন দেখাতে নিয়ে যান। তারা সেসব স্থানে গিয়ে তালপাতায় লেখা পত্রিকা, সরকারি নির্দেশনামা, বিভিন্ন বংশের রাজাদের জীবনসংবলিত পুস্তক দেখতে পায়। এ ছাড়া সিদ্দিক সাহেব অবসর সময়ে ছেলেমেয়ের সঙ্গে নিজ দেশের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। কারণ তিনি চান তার সন্তানরা নিজ দেশের প্রাচীন অবস্থা সম্পর্কে জানুক এবং জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে খাঁটি বাঙালি হয়ে গড়ে উঠুক। সেই আলোচনার উদাহরণ
ক. আধুনিক ইতিহাসের জনক কে?
খ. ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?
গ. রাজন এবং মেয়ে শ্রাবণীকে দেশ সম্পর্কে জানতে হলে ইতিহাস পাঠ অতীব জরুরি উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
ক. আধুনিক ইতিহাসের জনক জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোল্ড ফন্ র্যাংকে।
খ. ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস বলতে ইতিহাসের পরিধিগত দিককে বোঝায়। ইতিহাসে স্থান পাওয়া বিষয়টি কোন প্রেক্ষাপটে স্থানীয়, জাতীয় না আন্তর্জাতিক এভাবে ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে শুধু বোঝার সুবিধার্থে ইতিহাসকে স্থানীয় বা আঞ্চলিক ইতিহাস, জাতীয় ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক ইতিহাস এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়। সুতরাং ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস হচ্ছে স্থানীয় ইতিহাস, জাতীয় ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক ইতিহাস। ইতিহাসের বিষয়বস্তুতে মানুষ, মানুষের সমাজ, সভ্যতা ও জীবনধারা পরস্পর সম্পৃক্ত ও পরিপূরক।
গ. রাজন ও শ্রাবণীকে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে হলে ইতিহাস পাঠ অতীব জরুরি বলে মনে করি আমি। কারণ ইতিহাস হলো মানবজাতির পথপ্রদর্শক। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং ব্যক্তি জীবনের প্রয়োজনে ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ইতিহাসজ্ঞান মানুষকে পূর্ণমাত্রায় তার অতীত সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। ইতিহাসের ব্যবহারিক গুরুত্বও অপরিসীম। জাতীয়তাবোধ এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ়করণে ইতিহাস পাঠের বিকল্প নেই। জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবেও ইতিহাসের গুরুত্ব অসীম। কারণ ইতিহাস হলো একমাত্র মাধ্যম, যার মাধ্যমে একটি জাতির অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায়। আবার ইতিহাস মানবজাতি ও ছাত্রছাত্রীদের অতীতের দৃষ্টান্তগুলোর মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান করে দেয় বলে ইতিহাসকে বলা হয় মানবজাতি ও শিক্ষার্থীদের দর্পণ। আবার ইতিহাস পাঠের মাধ্যমে আমরা মানব সমাজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড, চিন্তাচেতনা, জীবনযাত্রার অগ্রগতি, দেশের অগ্রগতি, সভ্যতার বিকাশ ও উদ্ভব সম্পর্কে জানতে পারি। ইতিহাসের আরও একটি প্রধান উপজীব্য বিষয় হলো মানব সমাজের অগ্রগতির ধারা ও বর্ণনা তুলে ধরা। কোনো একটি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থেই ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত প্রয়োজন। দেশ ও জাতিকে তার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম; সে দেশের ইতিহাসের দিকে দেশের মানুষকেই নজর দিতে হবে। যেমন বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং এ দেশটির কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে একমাত্র বাঙালি জাতির উৎপত্তি ও জাতিটি সৃষ্টির পরবর্তী সময় ধরে কীভাবে বিকশিত হয়েছে, সভ্যতার কোন পর্যায় থেকে তারা উন্নতি লাভ করেছেন এবং সেই পর্যায়সমূহের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে কী রকম ধারাবাহিক অবস্থান ছিল ও আছে তার ওপর ভিত্তি করে। যেগুলোর মাধ্যমে এই জাতি তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে থাকবে। সঠিক ইতিহাসের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারাকে গতিশীল রাখা যায়।
