আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে দক্ষিণ চট্রগ্রামের চার পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থিতা বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। তবে এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। চার পৌরসভার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তিনজনের নাম জেলা কমিটির কাছে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে জেলার চার পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী বাছাইয়ের লক্ষ্যে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্রগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার দু’দিনে চারটি পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে দুই দফা বৈঠক করেছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য প্রার্থীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। রবিবারের মধ্যে তা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরো জানান, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থিতা বাছাই করা হবে। এতে দলের ত্যাগী, ক্লিন ইমেজ প্রাধান্য পাবে।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের বুধ ও বৃহস্পতিবার পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তৃণমূলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ জানান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আওতাধীন চার পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী বাছাইয়ে দলের ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হবে। তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মতামতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবার। তৃণমূল আওয়ামী লীগের পাঠানো নাম বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এবারের নির্বাচনে দলে উড়ে এসে জুড়ে বসাদের কোনো সুযোগ থাকবে না।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের ৩২৯ পৌরসভার মধ্যে ২৫৯ নির্বাচন উপযোগী বলে ইসিকে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২৮ ডিসেম্বর প্রথম দফার পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের তফসিল দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হবে। তবে যেসব পৌরসভার মেয়াদ আগামী জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে শেষ হবে সেগুলোর নির্বাচনী কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে।
এদিকে পটিয়ায় পৌরসভা নির্বাচনের হাওয়া বইছে। পৌর নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একাধীক সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ইতোমধ্যে লক্ষ করা যাচ্ছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন, পটিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ সাধারণ সস্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সস্পাদক টিপু সুলতান চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি ও দক্ষিণ জেলা শাপলা কুঁড়ি সভাপতি আইয়ুব বাবুল, সাবেক ছাত্র নেতা ও পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সস্পাদক সরোয়ার হায়দার।
পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যাদের নাম কেন্দ্রে যাবে বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন, বর্তমান মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি টিপু সুলতান চৌধুরী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ আইয়ুব বাবুল রয়েছেন।
পটিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগ সাধারণ সস্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন এবারও দল থেকে নির্বাচনের প্রস্ততি নিয়েছি। মাঠ পর্যায়ে প্রস্ততি খুবই ভালোই। দলের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ করছি এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার নিবিড় সম্পর্ক।
দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি টিপু সুলতান চৌধুরী বলেন, আমি নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্ততি নিয়েছি। স্কুলজীবন থেকে রাজনীতিতে জড়িত। স্কুলে ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দলের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি বিনিময়ে কোনো কিছুই চাইনি। আসন্ন পৌর নির্বাচনে এবার দল থেকে নির্বাচন করব দলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী আমাকে মেয়র পদে দেখতে চায়।
পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আইয়ুব বাবুল বলেন, শিক্ষাজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর আর্দশের সৈনিক, তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা, আমার পরিবারে আপাদতমস্তক আওয়ামী লীগ পরিবার। দুঃসময়ে মাঠি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দলীয় মনোনয়ন পেলেই জয়ী হবই।
পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হায়দার বলেন, আমি দলীয় মনোনয়ন পেলেই শতভাগ জয়ের আশা করছি।
১৯৯০ সালে গঠিত প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভার সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আগামী ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ পৌরসভার ভোট সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার।
