বইমেলা স্থগিতের প্রস্তাব ‘বাংলা একাডেমির কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্ত’

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:৫৭ পিএম

বইমেলা স্থগিতের প্রস্তাব ‘বাংলা একাডেমির কর্তৃত্ববাদী’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছে সৃজনশীল প্রকাশকদের দুই সংগঠন। এককভাবে বাংলা একাডেমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায় তারা।

প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি এ প্রতিবাদ জানায়। রবিবার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক সভায় মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার এক সভা শেষে অমর একুশে বইমেলা স্থগিতের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে বলে জানায় বাংলা একাডেমি। ভার্চ্যুয়াল মেলা আয়োজনের প্রস্তাবসহ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার কথা জানায় একাডেমি।

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে আগামী অমর একুশে গ্রন্থমেলা স্থগিত করা হয়েছে। আপাতত ভার্চ্যুয়াল মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে’।

শুক্রবার বইমেলা স্থগিতের খবরটি গণমাধ্যমে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানান লেখক, প্রকাশক ও বইপ্রেমীরা। বাংলা একাডেমিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান অনেকে।

প্রকাশকদের দুই সমিতির সভাপতি মো. আরিফ হোসেন ও ফরিদ আহমেদ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ একতরফা মিটিংয়ে আসন্ন ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২১’ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অথচ বইমেলার সার্বিক দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা পর্ষদ’ বিষয়টি ওয়াকিবহাল নয়। এ ছাড়া প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুই সংগঠন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি- কারও সঙ্গেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।

তারা বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা আমাদের ঐতিহ্যের অহংকার। অথচ এ রকম একটি আয়োজন স্থগিতের একতরফা কর্তৃত্ববাদী সিদ্ধান্ত নিল বাংলা একাডেমি। আমরা, বাংলাদেশের প্রকাশক সমাজ, বিষয়টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। করোনাকাল বিবেচনায় অমর একুশে বইমেলা পরিচালনা পর্ষদে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রয়োজনে বইমেলা আয়োজনের সময় পুনর্নির্ধারণ করে বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত। কী করে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা যায়, তাও ভাবার সুযোগ ছিল।  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো, মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা। অথচ এ সবই অগ্রাহ্য করা হলো’।

জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আয়োজক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রথমে সিদ্ধান্ত নেবে। তারপর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে আলাপ করা হবে। তারপর প্রকাশকদের সঙ্গে আলাপ করা হবে। করোনা পরিস্থিতিতে ফিজিক্যাল অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজন করা সম্ভব নয়। এ কারণে আমরা মেলা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য রবিবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি পাঠাব। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাস আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের মাস, সেহেতু আমাদের কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকবেই। সেই সব আয়োজন ভার্চ্যুয়ালি করা হবে। সেই সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল একটি বইমেলার আয়োজনের  চিন্তা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা ফিজিক্যালি মেলা আয়োজন করতে চাই। আমরা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠাব। তারপর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত