সুনামগঞ্জে জালিয়াতি করে সন্তান সেজে বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাতের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। গ্রেপ্তার যুবকের নাম সন্তোষ পাল (২০)। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের গুরেশপুর গ্রামের সাধন পালের ছেলে।
বুধবার রাতে ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট থেকে সন্তোষ পালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আমল গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ জোনের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালেদ মিয়ার আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।
সিআইডি ও মামলার সূত্রে জানা যায়, জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নের কাবিলাখাই গ্রামের পরিমল পাল মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশ স্বাধীনের কয়েক বছর পর তিনি ও তার দুই ভাই ভারতে চলে যান। বাংলাদেশে পরিমল পালের স্ত্রী, সন্তান কেউ নেই। কিন্তু দোয়ারাবাজার উপজেলার গুরেশপুরের সাধন পালের ছেলে সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ভাতা উত্তোলন করেন।
সন্তোষ পালের মা রেনু বালা পাল জীবিত থাকলেও উত্তরাধিকার সনদপত্রে মাকে তিনি মৃত দেখিয়ে অন্যের ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় কাবিলাখাইয়ের পার্শ্ববর্তী সলফ গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গেদা আলীর ছেলে ইসমাইল আলী চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সন্তোষ পালের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছেন সুনামগঞ্জের সিআইডি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির এসআই সুমন মালাকার দেশ রূপান্তরকে জানান, সন্তোষ পাল মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নন। তিনি দোয়ারাবাজারে গুরেশপুরের সাধন পালের ছেলে। অথচ তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কাবিলাখাইয়ের মুক্তিযোদ্ধা পরিমল পালের ছেলে সেজে ভাতা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।
এই ঘটনায় মামলার প্রেক্ষিতে সন্তোষ পালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
