মালয়েশিয়ার কেএম৯২ জালান গুয়া মুসাং-লজিং এলাকায় ভূমিধসের পর নিখোঁজ থাকা বাংলাদেশি শ্রমিক জহিরুল আখন্দকে বৃহস্পতিবারও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তিনি জীবন্ত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়েছেন বলে শঙ্কা করছেন স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা বেরনামা বৃহস্পতিবার বিকেলে জানিয়েছে, এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। একাধিক খননকারী যন্ত্রের মাধ্যমে ধসে যাওয়া এলাকায় খোঁজ করা হচ্ছে।
গুয়া মুসাং জেলা পুলিশের প্রধান সুপার সিক চুন ফু বলেছেন, ‘আমরা এখনো তাকে খুঁজে পাইনি। ঘটনাস্থলে একটি পোশাকের ব্যাগ পাওয়া গেছে। আমাদের ধারণা ব্যাগটি ভুক্তভোগী শ্রমিকের।’
‘নদীর পার্শ্ববর্তী এবং একটি সবজি বাগানের পাশের চার কিলোমিটার এলাকায় চারটি দলে ভাগ হয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।’
‘পুলিশের মোট ৩৫ কর্মী উদ্ধার কাজে সাহায্য করছেন।’
গত রবিবার বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে জহিরুলের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভূমিধসের পর ওই এলাকার রাস্তাঘাট অচল হয়ে পড়েছে। কয়েক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ।
মালয়েশিয়ায় গত কয়েক মাস ধরে প্রায়ই কোনো না কোনো বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করার কারণে এমন পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে প্রবাসীদের।
বুধবার লোহার আইবিএমের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আব্দুর রহিম নামের একজনের মৃত্যু হয়। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলায়।
ডিসেম্বরের শুরুতে দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হওয়ার ৩ দিন বাদে পিলার পড়ে মারা যান শরিফুল ইসলাম নামের আরেক শ্রমিক।
১৩ সেপ্টেম্বর আরেক জনের ভয়াবহ মৃত্যু হয়। একটি তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করার সময় আব্দুল মান্নান মোল্লা নামের এক প্রবাসী মারা যান।
এ ছাড়া সপ্তাহ দুয়েক আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান আরেকজন।
