উইন্ডিজের বিপক্ষে প্রাথমিক ওয়ানডে স্কোয়াডে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজাকে না রাখার ব্যাখ্যায় নির্বাচকরা ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর যুক্তি দেখিয়েছিলেন। সেই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েছেন তারা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের জন্য ১৮ সদস্যের দলে তিন তরুণ পেসারকে সুযোগ দিয়েছেন তারা। দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের শরিফুল ইসলাম সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে পরীক্ষিত তরুণ অফস্পিন অলরাউন্ডার শেখ মাহাদি হাসানও ডাক পেয়েছেন। এর আগে হাসান ১টি এবং মাহাদি ৪টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন কিন্তু ওয়ানডেতে এই প্রথম। তবে শরিফুলের জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। তিন ক্রিকেটারেরই ওয়ানডে অভিষেক হয়ে যাওয়া খুব সম্ভব। তবে একজনের অভিষেক হচ্ছে এটা নিশ্চিত। নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে এই সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে তামিমের। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান।
২০২৩ বিশ্বকাপ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন মুখ নেওয়া বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, ‘আমরা তিনজন আনক্যাপড নিয়েছি, এটা পরিকল্পনার অংশ। এ সিরিজ থেকেই আমরা শুরু করছি। ওদের তৈরি করা এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে রেখে কাজ করানোর জন্যই তাদের রাখা। ২০২৩-এ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে, সেটার একটা পরিকল্পনা আছে। নতুন প্লেয়ারদের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম একটা বিরাট ব্যাপার। এ জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওরা দলের সিনিয়রদের থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে দলে যথেষ্ট অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করছি।’
নিজেদের মাঠে উইন্ডিজকে পেয়ে পরিকল্পনার শুরুতেই সফল হওয়ার আশা নির্বাচকদের। সিরিজ বাই সিরিজ বিভিন্নভাবে নিজেদের পরিকল্পনা সাজানোর কথা জানালেন। প্রথম সিরিজেই ভালো ফল পেতে দলে সব ধরনের কম্বিনেশন রেখেছেন বলে জানান নান্নু, ‘এখানে সব ধরনের কম্বিনেশন রাখা হয়েছে, পেস বোলিং, স্পিন যখন যে প্ল্যানটা দরকার হবে যে ম্যাচটায় দরকার হবে তখনি রিপ্লেস করা হবে। টিমের কম্বিনেশন যথেষ্ট ভালো। ব্যাটিং, বোলিং সব দিক দিয়ে একটা ভারসাম্য রাখা হয়েছে। নতুন এবং পুরনো মিলিয়ে অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে ভালো একটা দল হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই দল আমাদের ভালো একটা সিরিজ উপহার দেবে।’
হাসান ও শরিফুল যোগ্যতা দিয়েই নির্বাচকদের নজর কেড়েছেন। করোনার বিরতির পর বিসিবির আয়োজিত দুটি টুর্নামেন্টে ভালো করেছেন দুজনই। হাসান বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে খেলার সুযোগ পাননি। শরিফুল তামিম একাদশের হয়ে ৩ ম্যাচের মধ্যে এক ম্যাচেই নেন ৩৭ রানে ৪ উইকেট। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের হয়ে শরিফুল তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। ১০ ম্যাচ খেলে কামরুল ইসলাম রাব্বির সঙ্গে যুগ্মভাবে ১৬ উইকেট নেন। চ্যাম্পিয়ন হওয়া জেমকন খুলনার হয়ে হাসান মাহমুদ ৯ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১১ উইকেট। মাহাদি প্রেসিডেন্টস কাপে ৪ ম্যাচে ১০৬ রান ও ২ উইকেট নেন আর বঙ্গবন্ধু কাপে ৮ ম্যাচে ১৪৫ রানের পাশাপাশি নেন ৪ উইকেট।
ওয়ানডের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক ২৪ জনের থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন, ইয়াসির আলি, নাঈম শেখ, আল-আমিন হোসেন, নাসুম আহমেদ। ইনজুরিতে আগেই ক্যাম্পের বাইরে চলে যান পারভেজ ইমন।
গতকাল দল ঘোষণার দিনে রানে ফিরেছেন সাকিব। নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে এই প্রথম ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরি করলেন। সাভারে প্রাথমিক দলের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশের হয়ে ৫২ রান করেন সাকিব। একই ম্যাচে রান পেয়েছেন অধিনায়ক তামিম ইকবালও। ৮০ রান করে স্বেচ্ছা অবসর নিয়েছেন। দিন শেষে তার দল জিতেছে ৮ উইকেটে। আগের ম্যাচে হেরেছিলেন তামিমরা।
