চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আমার ৩৭ দফা নির্বাচনী ইশতেহারের পূর্ণ বাস্তবায়নে সবার সমন্বয় ও পরামর্শে উদ্যোগ নেব। যাতে এই রূপসী চট্টগ্রামকে একটি নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব, বাণিজ্যিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর বহরদারহাটস্থ বাসভবনের সামনে স্থাপিত মহানগর আওয়ামী লীগের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে বিজয়ী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব বলেন তিনি। এ সময় বিজয়ের ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসা নেতাকর্মীদের সঙ্গে রেজাউল করিম চৌধুরী শুভেচ্ছাবিনিময় করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচিতে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় প্রথমেই হাত দেব। তারপর রাস্তাঘাট সংস্কার ও মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কাজ করব। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য প্রতি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করা, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূল করা হবে। নগরীতে ব্রিটিশবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে। ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা নিরসনে স্থানীয় মহল্লার প্রতিনিধি, সব শ্রেণি পেশার সাধারণ মানুষ এবং কাউন্সিলরদের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ নেব।’
তিনি বলেন, নগরবাসীকে কথা দিতে পারি, প্রতিশ্রুতি পূরণের কঠোর পরিশ্রম করব। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, অন্যায়-অনৈতিক কাজে কখনো ক্ষমতাকে ব্যবহার করব না। প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। কোনো লোভ, অনৈতিকতা আমাকে এক ইঞ্চি বিচ্যুতি ঘটাতে পারেনি, পারবেও না। দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। লোভ-লালসা নেই বলে, কখনো নীতিকে বিসর্জন দিইনি বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন দিয়ে আমাকে মর্যাদা ও সম্মান দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা ও সম্মান অক্ষন্ন রাখতে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ মতো কাজ করব। এই বিজয় আমার নয়, এ বিজয় চট্টগ্রামবাসীর। এ বিজয় বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতীক নৌকার। মানুষ আমাকে এত পছন্দ করেছে আমি অভিভূত। মানুষ ভালোবেসেছে, মর্যাদা-সম্মান দিয়েছে। কথা দিতে পারি, সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
তিনি বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ করছে সিডিএ। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে। দখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার করতে হবে। নগরীর স্বাস্থ্যসেবার হারানো ঐহিত্যকে ফিরিয়ে আনতে ৪১টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে’।
এ সময় চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন বাবুল, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, সাংগঠনিক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক শমসের আলী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক চন্দন ধর, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান প্রমুখ।
এ ছাড়াও বৃহস্পতিবার সারাদিন নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা দলীয় নেতাকর্মী, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর পৃথক পৃথকভাবে নবনির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
