মণিরামপুরে বোমাবাজি ও প্রার্থীকে মারধরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভোট

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২১, ০৬:২৯ পিএম

যশোরের মণিরামপুরে বোমাবাজি, প্রার্থীকে মারধর, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের মধ্যে শেষ হয়েছে পৌরসভা নির্বাচন।

নির্বাচনের নয় নম্বর বিজয়রামপুর কেন্দ্রের অদূরে কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ত্রাস সৃষ্টি করতে মুহুর্মুহু বোমাবাজির ঘটনা ঘটে।

অবশ্য পুলিশ বলছে, কয়েকটা পটকা ফুটেছিল। বোমাবাজির অভিযোগ সঠিক নয়।

স্থানীয়দের দাবি, শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সকাল ৭টার দিকে খইতলা এলাকা থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান তার এজেন্টদের নিয়ে বিজয়রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যাচ্ছিলেন। পথে বেলতলা এলাকায় পৌঁছালে প্রতিদ্বন্দ্বী আইয়ুব পাটোয়ারীর সমর্থকরা হামলা চালায়। এ সময় তাকে ও এজেন্টদের মারপিট করা হয়। পরে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার লক্ষ্যে মুহুর্মুহু বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে শতাধিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

কাউন্সিলর প্রার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। আমার প্রতিপক্ষ আইয়ুব পাটোয়ারীর সমর্থকরা হামলা চালায়। আমার মাথায় ও বুকে আঘাত লেগেছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। তারপরও আমি কেন্দ্রে যেতে পারিনি।’

ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী শহীদ ইকবাল বলেন, কোনো কেন্দ্রেই তার এজেন্ট থাকতে দেওয়া হয়নি। তার স্ত্রীকে অপমানিত করা হয়েছে এবং তার মেয়ের কাছে থেকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। নৌকা প্রতীকের প্রতীকের প্রার্থীর স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মিলে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বয়স ৭২ বছর। নির্বাচন করতে এসে আমি কোনো অনাচার করতে চাই না। তারাই কোনো কেন্দ্রে এজেন্ট দেয়নি।

তিনি বলেন, মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে।

মণিরামপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, সকালের দিকে কয়েকটা পটকা ফুটেছিল। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট হয়েছে। অভিযোগ ঠিক না।

সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার সহিদুর রহমান জানান, মণিরামপুর পৌরসভায় মোট ভোটার ২২ হাজার ৯৬৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৮৩৬ ও নারী ভোটার ১১ হাজার ১২৯ জন। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৫ এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন। তিন মেয়র প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের কাজী মাহমুদুল হাসান, বিএনপির ধানের শীষের অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে আবু তালেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত