মেঘনা ছাত্রলীগ সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন স্থগিত

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:৫১ পিএম

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলনের পরেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে জেলা ছাত্রলীগ মৌখিকভাবে অধিবেশন স্থগিত করে।

দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ ছয় বছর পর সোমবার মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলন স্থানীয় মানিকারচর কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল(অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া এমপি।

প্রথম অধিবেশন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশনের স্থান ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশনের স্থান পরিবর্তন করে দাউদকান্দি উপজেলায় করার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন শিশির বলেন, মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগের বার্ষিক সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের ধারাবাহিক ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে । ব্যানারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক ছাত্রনেতাসহ (মেঘনার) উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের নামও নেই।

ব্যানারে স্থানীয় মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও যুবলীগ নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ব্যানারে না থাকলে মঞ্চে তাদের উপস্থিতি সম্মেলনকে পূর্ণতা দেয়।

জ্যেষ্ঠতার লঙ্ঘন করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মেঘনাতে একটি অপশক্তি প্রবেশ করানোর পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এটা করতে গিয়ে একটি মহল ছাত্রলীগের ঐতিহ্য সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিকুল আলমের উপস্থিতিতে  সাধারণ সম্পাদক সাইফুল্লাহ মিয়া রতন শিকদার বলেন, সম্মেলন নিয়ে কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে, যেমন সম্মেলনটি  উপজেলা পরিষদ মাঠে হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল জেলা ছাত্রলীগ। কি কারণে স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে তা জানি না।

এরপর মেঘনার সাবেক ছাত্র নেতাদের নামসহ সম্মেলনের ব্যানার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা দেখেছি। কিন্তু সকালে দেখি ব্যানার ক্যু হয়ে গেছে। তারপরেও সম্মেলনকে সফল করতে আমরা সেখানে উপস্থিত হয়েছি এবং সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত করেছি। কারণ আমরা চাই যে সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বের পরিবর্তন আসুক। আমরা সহযোগিতা করেছি।

প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার পর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ঘোষণা করলেন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দ্বিতীয় অধিবেশন করা হবে। সেখানে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।

নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী উল্লেখিত স্থানে গিয়ে প্রস্তুতি নিয়ে নেতাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু প্রথম অধিবেশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নেতৃবৃন্দ কোথায় জানি চলে গেছেন।

পরে অজ্ঞাত কারণ দেখিয়ে দ্বিতীয় অধিবেশন দাউদকান্দিতে করা হবে বলে নেতৃবৃন্দ চলে গেলেন।

সম্মেলন হলো মেঘনায় আর কাউন্সিল হবে দাউদকান্দি এটা মেঘনাবাসীর জন্য নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করি। নেতৃত্বে যেই আসুক সম্মেলন মেঘনায় হয়েছে, দ্বিতীয় অধিবেশনও মেঘনায়ই হবে। আমরা চাই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোন অছাত্র, বিবাহিত এবং বেশি বয়সী ছাত্ররা যে নেতৃত্বে আসতে না পারে।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করা মেধাবীরা যেন আগামীর নেতৃত্বে আসে। যোগ্য প্রার্থীকে সরিয়ে কারও পছন্দের প্রার্থীকে নেতৃত্ব দেয়া হলে মেঘনার মানুষ সেটা মেনে নেবে না।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু কাউসার অনিক বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে দ্বিতীয় অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা থেকে আগত নেতাদের নিরাপত্তাজনিত কারণে দ্বিতীয় অধিবেশনের স্থান পরিবর্তন করা হয়েছিল। ব্যানার পরিবর্তন বা স্থানীয় আ্ওয়ামী লীগ নেতাদের নাম না থাকার বিষয়টি দুঃখজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত