আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘সড়ক ও পরিবহনের শৃঙ্খলা ফেরানোর দুরূহ কাজ এখনো আমরা সম্পন্ন করতে পারিনি, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং যেকোনো মূল্যে তা সম্পন্ন করতে হবে। তাহলেই কেবল জনগণ স্বস্তি পাবে। এ ছাড়া সড়কের চার লেন কিংবা আট লেন কোনো কাজে আসবে না, যদি আমরা সড়ক ব্যবস্থাপনা ও দক্ষতা না বাড়াতে পারি’।
মঙ্গলবার দুপুরে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজারে চার লেন বিশিষ্ট দ্বিতীয় সালেপুর সেতুর নির্মাণ কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি এসব বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সড়কের নেটওয়ার্ক সুদূর পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এবং অনেক আধুনিক মানের দৃষ্টিনন্দন সড়ক নির্মিত হয়েছে। এসব সড়ক অনেকটা বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে এবং যা দেখার জন্য মানুষের উপচে পড়া মানুষের ঢল দেখা যায়’।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একসময় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক মরণফাঁদ হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটতো এবং অনেক মানুষের প্রাণহানি হতো। সেই দুর্নাম এখন আর নেই, দুর্ঘটনাও শূন্যের কোঠায় রয়েছে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অত্যন্ত ব্যস্ততম হলেও দীর্ঘদিনে তা চার লেনে উন্নীত হয়নি। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই মহাসড়কের যানজট নিরসন ও দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য পঁচিশ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি বাঁক প্রশস্তকরণসহ ডিভাইডার স্থাপন ও ইন্টারসেকশন নির্মাণ করা হয়েছে’।
তিনি জানান, নবীনগর থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত মহাসড়কটি জাপানের অর্থায়নে চার লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা মহাসড়কের সেতুগুলোও চার লেনে রূপান্তরিত করছি, যাতে করে পরবর্তীতে আর নতুন করে প্রশস্তকরণের চিন্তা করতে না হয়। গাবতলি থেকে নবীনগর পর্যন্ত মহাসড়কটি সরকার ১০ লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ হয়েছে। এখন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের কাজ চলমান রয়েছে।
গাবতলি সেতুটি অত্যন্ত ব্যস্ততম এবং ভালো অবস্থায় না থাকায় এটিকে প্রথম ৮ লেনে রূপান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।
ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি বলার পরও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে এখনো ব্যানার-ফেস্টুন ঝোলানো রয়েছে। এ ছাড়া রাস্তার ধারে ময়লা ফেলে রাখার কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে’।
এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু রাস্তা নির্মাণ করলেই হবে না, রাস্তার রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে পাশাপাশি নির্মাণকাজে গুণগতমান ফিরিয়ে আনতে হবে। বর্ষাকাল বেশি দূরে নয়, রাস্তা নির্মাণের পর এক পশলা বৃষ্টিতে যদি সেই রাস্তার ছাল-বাকলা উঠে যায় এ রকম রাস্তা নির্মাণ করে কোনো লাভ নাই। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে বর্ষার আগেই ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোকে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা নীপা, আমিন বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান খান শান্ত, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির রকিব আহমেদসহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রসঙ্গত চার লেন বিশিষ্ট সালেহপুর সেতু নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০.৩০ কোটি টাকা। জিওবি’র অর্থায়নে প্রায় ৬৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ১৮ মিটার প্রশস্ততার সেতুটি আগামী ২৪ মাসের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করবে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
