করোনাকালে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উ. কোরিয়া!

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:১৪ পিএম

২০২০ সালে পুরো করোনাকালে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে গেছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের একটি গোপন প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।

সেই পরীক্ষার প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম করে অর্থ চুরি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইরান উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু পরীক্ষায় সাহায্য করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ডয়চে ভেলে জানায়, বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রতিবেদনটি দেখেছে বলে দাবি করেছে।

২০২০ সালে উত্তর কোরিয়া যে পরমাণু অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা চালিয়েছে এবং নতুন অস্ত্র তৈরি করেছে, তা এখন অনেকটাই স্পষ্ট।

কিছুদিন আগে দেশের কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেস শেষ হওয়ার পরে সেনাবাহিনী একটি কুচকাওয়াজ করে। সেখানে নতুন ব্যালিস্টিক মিসাইল দেখানো হয় দেশটির নেতা কিম জং উনকে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, ওই ব্যালিস্টিক মিসাইলের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্রও যুক্ত করা ছিল।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে অবশ্য আরও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, সাইবার হ্যাক করে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জোগাড় করেছে উত্তর কোরিয়া।

এ অর্থ দিয়ে কম দূরত্বের, বেশি দূরত্বের এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করেছে তারা। বিশ্বের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই গোপনে এ কার্যক্রম চালিয়েছে দেশটি।

২০১৮-১৯ সালে তিনবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করার জন্য তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উত্তর কোরিয়া নিয়ে নতুন স্ট্র্যাটেজি পরিকল্পনা করছেন। কীভাবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্র তৈরি বন্ধ করা যায়, সে বিষয়ে তিনি ভাবছেন।

এদিকে জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে সাহায্য করছে। দুইটি দেশই গোপনে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ইরান অবশ্য এতদিন পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সম্প্রতি ইরানি পার্লামেন্টে একটি আইন প্রণয়ন হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, ইউরোনিয়াম মজুতের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানো হবে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত