দেশের ৭৬ থেকে ৮৫ শতাংশ কিশোর-কিশোরী খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন উপাদানসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করছে। খাদ্যের পাঁচটি গ্রুপের মাঝে শাকসবজি, স্টার্চ জাতীয় খাবার, দুগ্ধ, প্রোটিন এবং ফ্যাটযুক্ত খাবারের মধ্যে চারটি গ্রুপেরও বেশি খাবার গ্রহণ করে থাকে। যার ফলে এই খাবার শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরী স্বাস্থ্য ও কল্যাণ জরিপ ২০১৯-২০’ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
জরিপের ফলাফল উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর এডোলেসেন্ট হেলথ ২০১৭-৩০ তৈরি ও বাস্তবায়ন করছে। স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ প্রভূত উন্নতি সাধন করলেও বাল্যবিয়ে, কৈশোরে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণের হার এখনো বেশি।
স্বাস্থ্য খাতে অর্জিত উন্নয়ন সমুন্নত রাখতে বাল্যবিয়ে রোধ করা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পর্যাপ্ত তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক বলে জানান তিনি।
জরিপে দেখা যায়, দেশের ৯০ শতাংশ কিশোর-কিশোরী মোবাইল ফোন ব্যবহারের সুবিধাপ্রাপ্ত। বিবাহিত কিশোরীদের প্রায় অর্ধেক ও অবিবাহিত কিশোরীদের প্রায় এক- চতুর্থাংশের নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে। কিশোরদের ৫০ শতাংশ এবং বিবাহিত ও অবিবাহিত কিশোরীদের ২০ শতাংশ সপ্তাহে কমপক্ষে একবার ইন্টানেট ব্যবহার করে থাকে।
জরিপে আরও দেখা যায়, ৭৩ শতাংশ অবিবাহিত কিশোরী এবং ৬৬ শতাংশ অবিবাহিত কিশোর বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। এ তথ্যের জন্য কিশোরীরা বইয়ের ওপর নির্ভর করলেও কিশোরদের তথ্য সংগ্রহের মূল মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। কিশোরীদের অধিকাংশই ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে এই পরিবর্তন সম্পর্কে অবহিত ছিল না। বিবাহিত ও অবিবাহিত কিশোরীদের প্রায় সকলেই (৯৮ শতাংশ) ঋতুকালীন একবার ব্যবহারযোগ্য প্যাড বা সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে বহুবার ব্যবহার করা যায় এমন উপাদান ব্যবহার করে।
নিউট্রিশন অ্যান্ড এডzকেশন অফিসের পরিচালক জার্সেস সিধওয়া বলেন, জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে যে কিশোর-কিশোরীরা তাদের বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে আরও তথ্য চায়। এখন আমাদের ভাবতে হবে এই কিশোর-কিশোরীদের আমরা কতটা কার্যকরীভাবে এসব তথ্য দিতে পারি। আর এজন্য প্রয়োজন বিভিন্ন সেক্টরের একীভূত পদক্ষেপ।
জানা যায়, বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণ পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে আনা ছিল এই জরিপের মূল উদ্দেশ্য। জরিপের মূল প্রতিবেদনে কিশোর-কিশোরীর গণমাধ্যম ব্যবহার, বিয়ে, ঋতুকালীন স্বাস্থ্যবিধি, জেন্ডার-সম্পর্কিত সামাজিক আচরণ, সহিংসতা, মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও খাদ্যবৈচিত্র্য এবং পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সংযোগ বিষয়ক ১২টি অধ্যায়ে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশব্যাপী এই জরিপ পরিচালনা করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (নিপোর্ট) এবং টেকনিক্যাল সহায়তা প্রদান করে আইসিডিডিআর,বির রিসার্চ ফর ডিসিশন মেকার্স (আরডিএম) প্রকল্প ও ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনার ডাটা ফর ইম্প্যাক্ট (ডিফরআই)। জরিপে অর্থায়ন করেছে ইউএসএআইডি, যুক্তরাজ্যের দাতা সংস্থা এফসিডিও এবং বাংলাদেশ সরকার।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ সার্ভিসেস ডিভিশনের সচিব আব্দুল মান্নান, মেডিকেল এডুকেশন অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ডিভিশনের সচিব মোহাম্মাদ আলিনূর প্রমুখ।
