সেনাপ্রধানকে হেয় করা মানে প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করা: জেনারেল আজিজ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১১:০৩ পিএম

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, সেনাপ্রধানকে নিয়োগ দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। সেনাপ্রধানকে হেয়প্রতিপন্ন করা মানে প্রধানমন্ত্রীকে হেয়প্রতিপন্ন করা।

মঙ্গলবার আর্মি অ্যাভিয়েশনের বেসিক কোর্সের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব বলেছেন তিনি।

সম্প্রতি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরায় প্রকাশিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শীর্ষক প্রতিবেদন সম্পর্কে জেনারেল আজিজ আহমেদ এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘আপনারা প্রশ্ন করেছেন বারবার কেন আমাকে টার্গেট করা হয়। সেটার দায়িত্ব আপনাদের ওপর ছেড়ে দিলাম। আপনারাই বুঝে নেন, খুঁজে নেন। কেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানকে টার্গেট করা হচ্ছে।

নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন আছেন জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, আমি সম্পূর্ণভাবে সচেতন আমার কারণে কখনো যেন আমার ইনস্টিটিউশন, অর্গানাইজেশন যেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং আমাদের সরকার কোনোভাবে বিব্রত না হয়, বিতর্কিত না হয়, আমি সে ব্যাপারে সম্পূর্ণ সচেতন। যা কিছু আপনারা শুনছেন, এগুলোর কোনো প্রমাণ... এগুলো হয়তো তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে কাটপিস, অন্যান্য জিনিস সন্নিবেশিত করে তারা এগুলো করতেই পারবে। কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য হাসিল হবে না। সেটা আপনারা আপনাদের কলমের মাধ্যমে ইতিমধ্যে তাদের জবাব দিয়েছেন। সেজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

প্রতিবেদনের সঙ্গে বাংলাদেশের যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল আজিজ বলেন, সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে তেমন কিছু করার হয়তো থাকবে না। আমি নিশ্চিত সেটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থা যারা আছে তারা হয়তো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, আমাদের চেইন অব কমান্ডে যারা আছে এ ব্যাপারে আমরা সবাই সতর্ক আছি। আমি আশ্বাস দিতে চাই আপনাদের এ ধরনের অপপ্রচার সেনাবাহিনীতে বিন্দুমাত্র আঁচ ফেলতে পারবে না। আমাদের চেইন অব কমান্ডে প্রভাব ফেলবে না।

সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশের সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুগত। বাংলাদেশ সরকারের, বর্তমান সরকারের যেকোনো আদেশ নির্দেশ পালনে সদা প্রস্তুত। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ হোক, বহির্বিশ্বের হোক, যেকোনো সমস্যা মোকাবিলার জন্য আমরা সাংবিধানিকভাবে শপথবদ্ধ। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

অপপ্রচার সেনাসদস্যরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যে ধরনের অপচেষ্টাগুলো হচ্ছে, এগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠান, যেটা হলো জাতির গর্ব, দেশের গর্ব সেই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে তারা নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে যাতে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আপনাদের আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই- সেনাবাহিনী একটি অত্যন্ত প্রশিক্ষিত এবং ওয়েল মোটিভেটেড ফোর্স; আগের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড অত্যন্ত ইফেকটিভ এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য ঘৃণাভরে এ ধরনের অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে অতীতে, এখনো করছে। বর্তমানে যা আছে তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে যাচ্ছে।

এর আগে সেনাপ্রধান নবীন সেনা বৈমানিকদের ফ্লাইং ব্রেভেট পরিয়ে দেন। ব্রেভেট প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যম অ্যাভিয়েশন বেসিক কোর্স সম্পন্নকারী অফিসাররা সেনা বৈমানিক রূপে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন। অ্যাভিয়েশন বেসিক কোর্স ২০১৯ সালের আগস্ট থেকে শুরু হয়। এ কোর্সে ২০ জন তরুণ সেনা কর্মকর্তা সফলতার সঙ্গে প্রাথমিক বিমান চালনা প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত