আবারও ৫৪টি পরিবারকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে স্বামী-স্ত্রী-সন্তানদের সংসারে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করে দিলেন সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকির হোসেন।
সাজার পরিবর্তে হাতে ফুল হাতে দিয়ে ১০৮ জন স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্বের মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে ৫৪টি পরিবারকে ভাঙনের হাত হতে রক্ষা করা হয়। সন্তানদের তাদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বাবা-মার সান্নিধ্য লাভের ব্যবস্থা করে দিলেন এই বিচারক।
এর আগেও একদিনে ৪৭টি পরিবারকে এমন রায়ের সংসারে ফিরিয়ে দেয়া ও অর্ধশতাধিক শিশুকে সাজার পরিবর্তে বই হাতে দিয়ে ব্যতিক্রমী রায় ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন এই বিচারক।
সোমবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জাকির হোসেন এই ১০৮জন স্বামী-স্ত্রীকে এক সঙ্গে করে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি করে ফুলের শুভেচ্ছা ও চকলেট প্রদানের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি করেন।
আর স্বামী স্ত্রীরা আপস নিষ্পত্তিতে শর্তাবলি হিসেবে স্বামী-স্ত্রী সন্তান নিয়ে পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখা, স্বামী-স্ত্রী উভয়ে উভয়কে যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়া, মনোমালিন্য, বিরোধ দেখা দিলে নিজেরা আলাপ আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধান করা,স্ত্রীকে নির্যাতন না করা যৌতুক না চাওয়া শর্তে এসব মামলা নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়।
পরিবারের এসব সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে ফিরিয়ে দিতে স্বামী স্ত্রী পারিবারিক বিরোধ মিঠাতেই আদালত এসব মামলায় সাজার পরিবর্তে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
এ ছাড়া আরও আরও ১১টি মামলায় পরিবারকে একীভূত করতে সক্ষম না হওয়ায় স্বামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১১ স্বামীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
আদালত এসব রায়ে উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আইন আদালত সৃষ্টি হয়েছে মানুষকে শুধু শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে। মানুষের এ ধারণাকে পাল্টে দেওয়ার জন্য আজকের এ রায়। আদালত যে শুধু শাস্তিই দেন না মানুষের মধ্যে শান্তির সুবাতাস দেয়, সম্প্রীতির বন্ধন গড়ে দেয় এ রায়ের মাধ্যমে মানুষ সেটা অনুধাবন করতে পারবে।’
আর এসব রায়ে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া খুশি ও সন্তুষ্টি জানিয়ে দম্পতিরা জানান, সংসারের নানা বিষয় নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব, যৌতুক দাবি কিংবা স্ত্রীর প্রতি খারাপ আচরণসহ নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোর্টে আসা যাওয়া করতে হচ্ছিল। স্বামী-স্ত্রীর এসব দ্বন্দ্বের কারণে সবাই ছিলেন আলাদা এতে পারিবারিক বিরোধ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি তাদের সন্তানরা ছিল বাবা মার আশ্রয়হীন। তার এসব রায়ে মাধ্যমে পারিবারিক দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি হয়েছে।
জেলা আইনজীবী সমতির আইনজীবী হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী জানান, আদালতের এরূপ উদ্যোগের ফলে অন্যান্য স্বামী-স্ত্রী যারা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়ে মামলা লড়ে যাচ্ছেন তারাও এ পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসতে উৎসাহী হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নান্টু রায় বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে অনেকগুলো পরিবার সংসার ঠিকে গেল আর সন্তানরা পাবে তাদের নিরাপদ পারিবারিক আশ্রয় । এর মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বাড়বে।
