চট্টগ্রাম নগরীর যানজট নিরসনে কুলগাঁও বালুছড়া এলাকায় ১৬ একর জায়গার ওপর সর্বাধুনিক বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রায় সাড়ে তিন বছর পার হলেও এখনো জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে (চসিক) সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশসহ একাধিক দপ্তরের অনুমোদন নিতে একটু বিলম্ব হয়েছে। জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে চসিককে বুঝিয়ে দিলেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হবে।
এ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নগরীকে যানজটমুক্ত করতে টার্মিনাল অবশ্যই প্রয়োজন। আমার পরিকল্পনায়ও টার্মিনাল নির্মাণের বিষয়টি আছে। এতদিন টার্মিনাল না হওয়ার পেছনে পরিবহন মালিকরা দায় এড়াতে পারেন না। অনুমোদন হওয়া এ টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলব। সবে মেয়রের দায়িত্ব নিয়ে করপোরেশনের যাবতীয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করছি। করপোরেশনের যেকোনো কাজে গাফিলতি করলে কাউকে ছাড় দেব না।’
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অসংখ্য বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যান চলাচল করলেও এসব গাড়ির জন্য কোনো নির্ধারিত টার্মিনাল না থাকায় নগরে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। নগরবাসীকে যানজটের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয় চসিক। পরে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়ন ও যানজট নিরসনে বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। তখন প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। নগরীর কুলগাঁও বালুছড়া এলাকায় এ টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৯৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৫ লাখ ৫ হাজার, জমির উন্নয়ন বাবদ ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৩৯ হাজার, বাস-ট্রাক টার্মিনালের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ ইয়ার্ড নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের অধীনে ৩৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে রাস্তার উন্নয়নকাজ, অ্যাপ্রোচ রোডের উন্নয়ন, ৩৭টি ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ, ইয়ার্ড নির্মাণের কথা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীর যানজট অনেকাংশে কমে যাবে। তবে জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় আমরা প্রকল্পটি নিয়ে সামনে এগোতে পারছি না। ইতিমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিবেশ ছাত্রপত্রসহ যাবতীয় কাজ শেষ করেছি।’
প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. আবু ছালেহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ এ টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নে আমাদের কার্যক্রম থেমে নেই। সিডিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ পাঁচটি দপ্তর থেকে অনুমোদন নিতেই একটু দেরি হয়েছে। তবে সব ধরনের অনুমোদন প্রক্রিয়া শেষ করে গত বছর করোনার আগেই আমরা (চসিক) জেলা প্রশাসনকে জমি অধিগ্রহণের জন্য বুঝিয়ে দিয়েছি। এমনকি জমি অধিগ্রহণের জন্য ১৩০ কোটি টাকাও জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। তারাও ইতিমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করেছে। জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ শেষ করে আমাদের বুঝিয়ে দিলেই নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব।’
