ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে দুই সাংবাদিককে নাস্তিক বলে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেইসবুকে পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, বায়তুল মোকাররমের সামনে জুতা হাতে বিক্ষোভরত কয়েকজন তরুণ হঠাৎ একটি টেলিভিশনের ক্যামেরাপারসনকে তাড়া করেন। পরে ওই সাংবাদিক মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে ধাওয়ার শিকার ওই সাংবাদিক শুক্রবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ''আমি সাহাদাৎ হোসেন ডিবিসি নিউজে চিএসাংবাদিক হিসাবে কাজ করি। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পেশাগত কাজে বায়তুল মোকাররম মসজিদে যাই। নামাজ শেষ হওয়ার পর হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিলের দাবিতে জুতা মিছিল ও বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের চিত্রগ্রহণের সময় বিক্ষোভকারীদের একাংশ আমার দিকে তেড়ে এসে 'নাস্তিক', 'নাস্তিক' বলে চিৎকার করেন এবং আমার ক্যামেরা ভাঙার চেষ্টা করেন।''
তিনি আরো জানান, 'আমি তাৎক্ষণিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিসের ভেতর দিয়ে মসজিদের ভেতর পৌঁছে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিই। আমার সঙ্গে বৈশাখী টেলিভিশনের চিএগ্রাহকও ছিলেন'।
সাহাদাৎ হোসেন বলেন, 'আসলে পেশাগত কাজে বিভিন্ন সময় এরকম কঠিন মুহূর্তের সম্মুখীন হতে হয়। সাংবাদিকদের ওপর এমন হামলা বা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। আজ নিজের সঙ্গে ঘটেছে। পেশাগত কাজে যাই। ধর্ম বা কোনো নির্দিষ্ট দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা উদ্দেশ্য না। সাংবাদিকদের ওপর হামলার কোনো বিচার হয় না বলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়'।
তিনি বলেন, 'এমন হামলার প্রতিবাদ জানাই। সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জায়গাটা সুরক্ষিত রাখতে হবে।'
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকের সামনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন করে সমমনা ইসলামি দলগুলো।
বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের সেক্রেটারি মোস্তফা তারেকুল হাছান বলেন, সরকার যতই বাধা দিক, মোদির স্থান বাংলাদেশে হবে না, হতে দেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি মুসলমান ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে মোদির জন্য অপেক্ষা করবে।
শুক্রবার সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদের চারপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন বিভিন্ন ইসলামি দলের কর্মীরা।
এ সময় সমমনা ইসলামি দলগুলোর কয়েকজন নেতা সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা বিক্ষুব্ধদের রাস্তায় না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে মিছিলে গেলে দায়দায়িত্ব আমরা নেব না।’
এরপরও উৎসুক মুসল্লিদের অনেকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সাংবাদিককে ধাওয়া দেওয়ার বিষয়ে ইসলামি দলগুলোর কারো মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
