নাটোরের গুরুদাসপুরে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারের জন্য মাকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে মেয়ে ববি খাতুন। উপজেলার পৌর সদরের উত্তর নাড়িবাড়ী গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় মেয়ে ববিকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত মোছা. সেলিনা বেগম(৪৫) উত্তর-নাড়িবাড়ী গ্রামের নজরুল ইসলামের স্ত্রী।
মঙ্গলবার দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা তার কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকালে ববি তার মায়ের কাছে তার প্রবাসী স্বামীকে মোটরসাইকেল কিনে দিতে ১ লাখ টাকা দাবি করেন। এ বিষয় নিয়ে মা-মেয়ের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হয়। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকাল ৪টার দিকে ব্লেড দিয়ে মায়ের গলা কেটে হত্যা করে মেয়ে ববি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ববি এসব স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানায়।
স্বামীকে মোটরসাইকেল দেওয়ার দাবি পূরণ না হওয়া বাড়িতে একা পেয়েই মাকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
নিহতের স্বামী নজরুল ইসলাম জানান, চাকরির কারণে প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালে কাজে চলে যান। তার ছোট মেয়ে ববি বাসায় ছিল। সোমবার সন্ধ্যার আগে তিনি ফোনে হত্যার খবর জানতে পারেন।
তিনি বলেন, ববি আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া শিরিন-শিলাকে নিয়ে কৌশলে কাপড় কিনতে পাশের দোকানে যায়। বাজার থেকে ফিরে এসে কে বা কারা তার মাকে খুন করেছে বলে নাটক সাজিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে আমার ভাইদের নাম বলতে থাকেন।
সিংড়া-গুরুদাসপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জামিল আকতার জানান, নিহত সেলিনার ছোট মেয়ে ববির অসঙ্গতিপূর্ন কথাবার্তা বলায় তার প্রতি সন্দেহ হওয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে শুরু করা হয়। ববির পরিহিত বিভিন্ন কাপড়-চোপড় ধোয়ার জন্য বালতিতে রাখায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এক পর্যায়ে ববি হত্যার কথা স্বীকার করে। এসময় পুলিশ তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ববির ভ্যানেটি ব্যাগ হতে ৯ ভরি সোনা, নগদ ১৬ হাজার ৭৬০ টাকা পায়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সেলিনার ছোট মেয়ে ববি তার মাকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। স্বামীকে মোটরসাইকেল দেওয়ার দাবি পূরণ না হওয়ায় ওই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত সেলিনার বড় ভাই সুলতান আহমেদ খান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
