নগরীতে অপরাধ বাড়ছে দমাতে সিসি ক্যামেরা!

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ১২:০৩ এএম

রাজশাহী নগরীতে অপরাধ দমনে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার গুরুত্ব বাড়ছে। ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। অনেকে আবার বাড়ির সামনেও বসাচ্ছেন এসব ক্যামেরা। তবে এবার পুরো নগরীকেই সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। যার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৩০০ সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষও হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২০০ ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। অপরাধী শনাক্ত করা ও পুরো নগরী পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে এসব ক্যামেরা কাজে দেবে বলে আশা করছেন নগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

অপরাধ দমনে সিসি ক্যামেরার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নগরীতে আলোচনা বেশ জোরেশোরে শুরু হয় ২০১৫ সালের দিকে। নগরজুড়ে চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ক্লু উদ্ধার করতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ক্যামেরা থাকলে এসব অপরাধে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সহজ হতো বলে তখন আলোচনায় উঠে আসে। ওইসব অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে রাজশাহী নগরীকে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বেশ কিছু ক্যামেরা বসানোর কাজ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশন। এসব ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ভালো ফলও পায় পুলিশ। তবে তা পর্যাপ্ত ছিল না। নগরীর বেশিরভাগ এলাকা ছিল সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে। আবার অনেক ক্যামেরা নষ্টও হতো মাঝেমধ্যেই। এমন পরিস্থিতিতে এবার পুরো নগরীকেই ক্যামেরার আওতায় আনার কাজটি করছে মহানগর পুলিশ। সম্প্রতি বেশ কিছু অপরাধের ক্লু উদঘাটন ও অপরাধী ধরতে বেশ কাজে লেগেছে সিসি ক্যামেরা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে গত ২২ জানুয়ারি একটি শিশু চুরি হয়। এরপর অপরাধী ধরতে পুলিশ মাঠে নামলে সেই তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। আর ওই ফুটেজের সূত্র ধরেই চুরি যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নগরীতে ১৭টি সোনার বার ও ৬০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাতেও অপরাধী শনাক্ত হয়েছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমেই। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১২ মার্চ নগরীর ষষ্ঠীতলা এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এই চিত্রও ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। এমন অনেক অপরাধের নেপথ্য কারণ পরিষ্কার করছে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। এমন প্রেক্ষাপটে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পথঘাট সার্বক্ষণিক ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা রাজশাহী মহানগরবাসীর নিরাপত্তাসহ পুরো নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে চাই। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে মহানগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী শনাক্ত করা সহজ হবে। আমি আগামীতে রাজশাহী মহানগরবাসীকে বলব, প্রতিটি মানুষ দরজা ওপেন করে ঘুমাবে। কারণ সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়লে কোনো ছিনতাই, রাহাজানি, চুরি-ডাকাতি থাকবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত