বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে এই সরকারের পেটোয়া বাহিনী ও সন্ত্রাসী বাহিনী আওয়ামী লীগ নিরীহ মানুষদের ওপর অত্যাচার ও আক্রমণ চালাচ্ছে। অসংখ্য মানুষকে হত্যা ও গ্রেপ্তার করেছে। আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, এভাবে কখনো একটা দেশ চলতে পারে না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে আজকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত ও ভূলুণ্ঠিত করে কখনো আওয়ামী লীগ সরকার টিকে থাকতে পারবে না। তাদের অবশ্যই চলে যেতে হবে’।
‘জনগণের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে’ ঢাকায় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে এসব বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে ১১টা ৪০ মিনিটে বিক্ষোভ শেষ হয়।
এর আগে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের জড়ো হতে দেখা যায়। কয়েক শ নেতাকর্মী সমাবেশে অংশ নেন।
বিক্ষোভ থেকে নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।
বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে প্রেসক্লাবের সামনে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘আসুন, আজকে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। এই ভয়াবহ দানব সরকারকে সরিয়ে দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সে জন্য আহ্বান জানাচ্ছি খুব পরিষ্কার ভাষায়, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন। অন্যথায় প্রতিটি কর্তৃত্ববাদী সরকারকে যেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে, আপনাদেরও ঠিক একইভাবে বিদায় নিতে হবে। আসুন আজকে আমরা সবাই ঐক্য গড়ে তুলি, জনগণের ঐক্য গড়ি তুলি এবং এদের পরাজিত করি’।
তিনি বলেন, ‘এ সরকারকে রেখে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারব না। আজকে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আমাদের গণতন্ত্র বিপন্ন হয়ে পড়েছে’।
ভারতের সঙ্গে সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত ভালো সম্পর্ক। ভালো কথা। আমরা চাই প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক সুন্দর ও ভালো হোক। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমার তিস্তা নদীর পানি চুক্তি হয়নি। আমার এখন পর্যন্ত সীমান্তে হত্যা বন্ধ হয়নি। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে এটা আছে কি না- তা আমার জানা নাই। আজকে তাদের (ভারত) সঙ্গে আমাদের ব্যবসা -বাণিজ্যে আছে, তার সমাধান আমরা পাইনি। এই সরকার এতটাই নতজানু সরকার যে, ভারত বা অন্য দেশের কাছে আমাদের যে ন্যায্য দাবি, সেই দাবি আদায় করে নিতে পারছে না’।
‘আজকে সময় এসেছে। আজকে সকালেই খবরের কাগজে দেখলাম, আমাদের নিত্যপণ্যে জিনিসপত্রের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। দ্রব্যমূল্য অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে’।
বর্তমান সরকার খুব পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ‘ধ্বংস করেছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করে দিয়েছে। আর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চলেছে। এ সরকার স্বাধীনতা দিবসের দিনে বাংলাদেশের মাটিতে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। এই সরকার স্বাধীনতা আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলোকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ ও নস্যাৎ করে দিয়েছে। গত তিন দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা এবং চট্টগ্রামে যে সাধারণ মানুষের প্রাণ গেল, এ জন্য এই সরকার সম্পূর্ণভাবে দায়ী। এই সরকারকে অবশ্যই এর জন্য জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। এই রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে’।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আঞ্জুর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, ইশরাক হোসেন প্রমুখ বক্তব্যে রাখেন।
