কুমিল্লায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রত্যেক দিনই শনাক্তের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু। এরই প্রভাব পড়েছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় এখানকার করোনা ইউনিটে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্সরা। শয্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৯ দিনে কুমিল্লায় করোনায় মারা গেছে ৩২ জন। এর মধ্যে গতকাল শনিবার এক দিনেই ৭ জনের মৃত্যু হয়। এদিন নগরীতে ৫৫ জনসহ মোট ৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যা গত ৬ মাসে প্রায় দ্বিগুণ।
গত বছরের ৭ এপ্রিল কুমিল্লায় প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১১ এপ্রিল। এরপর ৩ জুন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ইউনিট চালু হয়। গতকাল পর্যন্ত জেলায় মোট ১০ হাজার ৫২০ জন শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৬৫ জন। আর মারা গেছে ৩২০ জন।
গতকাল সরেজমিনে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, ১৮টি আইসিইউ শয্যার সবকটিতেই রোগী রয়েছে। নতুন করে সংকটাপন্ন রোগী এলেও ভর্তি নিতে পারছে না কর্র্তৃপক্ষ। স্বজনরা সিরিয়াল নিয়ে অপেক্ষা করছেন আইসিইউর শয্যা খালি হওয়ার জন্য। এ ছাড়া করোনা ইউনিটে ১৩৪ শয্যার বিপরীতে ১৪৯ রোগী আছে। প্রতি ঘণ্টায় নতুন নতুন রোগী আসছে। এদের মধ্যে যাদের শ্বাসকষ্ট, তাদের হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাও ঠিকঠাক দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কুমিল্লার বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা থেকেও এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছে করোনা আক্রান্তরা।
কুমেক করোনা ইউনিটের ডা. মোরশেদুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে ৩০ সংকটাপন্ন রোগী সিরিয়ালে রয়েছে। ১৮টি আইসিইউ শয্যার সবকটিতে রোগী থাকায় তাদের জন্য কিছুই করতে পারছি না। যে হারে আক্রান্ত বাড়ছে, আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘সংক্রমণ ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নগরীতে ঘুরে ঘুরে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে।’
এদিকে করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ৩০ শয্যার করোনা ইউনিট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। গতকাল করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়ে কুমিল্লা সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান। আর জেনারেল হাসপাতালের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার থেকে করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি করা হবে।’
