ব্যানারে লেখা ‘দেশব্যাপী করোনা (কভিড-১৯) পরিস্থিতিতে জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ভ্রাম্যমাণ দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কেন্দ্র’। এটি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করা হয়। উদ্দেশ্য খামারিদের উৎপাদিত পণ্য করোনাকালীন লকডাউনের সময় ন্যায্যমূল্যে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
কিন্তু ঘটনাস্থলে চিত্র একটু ভিন্ন। কোনো ধরনের দুধ, ডিম ও মাংস কোনো কিছু বিক্রি করা হয়নি সেখানে। স্থানীয় একজন মুরগি দোকানির ভ্যানে একটি ব্যানার লাগিয়ে, ওই দোকানে বিক্রিত মুরগির একজন ক্রেতা ও একজন পথচারীকে নিয়ে উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রির নামে শুধু ফটোসেশন করেন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পাবলিক মাঠের পূর্বপাশে মুরগি ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে ফটোসেশনের ওই ঘটনা ঘটে। এটি ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা বলে মনে করছেন স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালীন জনসাধারণের প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে ও খামারিদের সহযোগিতার জন্য ১০ দিনের একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব খামারি করোনাকালীন লকডাউনের কারণে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করার জন্য ঘরের বাইরে যেতে পারছেন না তাদের কাছ থেকে ডিম, দুধ ও মাংস সংগ্রহ করে তা প্রাণিজ পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার কথা। কিন্তু ওই কর্মকর্তা মুরগি বাজারে এক দোকানির ভ্যানে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রয় কেন্দ্র নামে একটি ব্যানার টানিয়ে এবং ওই দোকানির কাছ থেকে ক্রয় করা ক্রেতাদের দাঁড় করিয়ে ফটোসেশন করেন। এতে স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় মুরগি ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস হোসেন জানান, ব্যানারে লেখা ডিম, দুধ ও মাংস বিক্রয় কেন্দ্র। অথচ তারা কোনো মুরগি সংগ্রহ বা বিক্রয় করেননি। কিছু ক্রেতার ছবি তুলে নিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। ব্যানারের সঙ্গে প্রাণিজসম্পদ কর্তকর্তার কাজের কোনো মিল না থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
ফটোসেশনে অংশগ্রহণকারী আছিয়া বেগম বলেন, ‘আমি হেঁটে যাচ্ছিলাম। আমাকে এক ভদ্রলোক বললেন একটু দাঁড়ান। আমি দাঁড়ানোর পর আমার ছবি তুলেছেন কয়েকজন। তবে কেন ছবি তোলা হয়েছে তা আমি জানি না।’
উপজেলা প্রাণিজসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের শুধু যানবাহন সাপোর্ট দেওয়ার কথা। করোনাকালীন যানবাহন পাওয়া যাচ্ছিল না তাই ওই ভ্যানের সঙ্গে ব্যানার লাগিয়ে ছবি তুলেছি। আমরা অন্য ভ্যানে করে মুরগি বিক্রি করেছি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা খামারিদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’
