গত বছর করোনা পরিস্থিতি আর তিন দফা বন্যায় হাওরের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি পুষিয়ে না উঠতেই আবারও সুনামগঞ্জের হাওরজুড়ে কৃষকদের মাথায় হাত। হাওরে পাকছে ধান, ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও দেশব্যাপী ‘লকডাউন’ থাকায় কৃষকের এ ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রমিক নেই।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনে শ্রমিক সংকটের কারণে সুনামগঞ্জের হাওরের তিন লক্ষাধিক কৃষক মাঠের ধান কাটা নিয়ে চিন্তিত। এরই মধ্যে জেলায় গত ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা শুরু হয়েছে।
জেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যমতে জেলায় এবার ১৫৪টি হাওরে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন। কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাওরে ধান কাটার জন্য কৃষকদের বিভিন্ন উপজেলায় ধান কাটার মেশিন সরবরাহ করা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষক আবদুল আউয়াল বলেন ‘গত বছর করোনার কারণে ধান কাটতে গিয়ে বেশিরভাগ টাকা গেছে শ্রমিক জোগাতে। এবারও অনেক দেনা করে টাকা এনে জমি চাষ করেছি। জমিতে ফসল পাকা ধরায় আর ঘরে বসে থাকতে পারছি না। পরিবার নিয়েই ধান কাটছি।’
বিশ^ম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরে কৃষক স্বপন কুমার বর্মণ জানান, পুরো হাওরে ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু দেশে লকডাউনের কারণে শ্রমিক পাওয়া কঠিন। গত বছর করোনার কারণে ধারদেনা করে ফসল আবাদ করেও খরচ ওঠেনি। এবারও খরচ বেশি হলে সারা বছর কীভাবে চলব।
তাহিরপুর উপজেলার শনির হাওরের কৃষক সোলেমান মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি হচ্ছে। এ মুহূর্তে দ্রুত এসব ধান কাটতে না পারলে হয়তো জমিতেই তা নষ্ট হবে। কিন্তু এত ধান কাটার শ্রমিক কই পাব।’
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় জানান, হাওরে এখন ধান কাটার মৌসুম, তাই লকডাউনে জেলার বাইরে থেকে শ্রমিকদের আনার ব্যবস্থা প্রশাসনকে করতে হবে। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে যারাই ধান কাটায় সহযোগিতা করবে তাদের সরকারি ত্রাণের আওতায় এনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি প্রশাসনকে খেয়াল রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, হাওরে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ধান কাটতে লকডাউনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার সব বালু-পাথর শ্রমিক রিকশাচালকসহ যারাই কর্মহীন আছেন তাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত ধান কাটার কাজে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এসব শ্রমিকের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও কৃষকদের ধান কাটতে সহযোগিতা করছে। আশা করছি আগামী ১০ মের মধ্যেই কৃষকদের ধান কাটা কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে।
