নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আদর্শনগর (চেছরাখালী) বাজার হয়ে কুলপতাক গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তাটির কার্পেটিং গত মাসের শেষ সপ্তাহে সম্পন্ন হয়েছে। এতে ১৬ মিলি, ৩/৪ ও ৫/১০ আকারের পাথর এবং বিটুমিনের যথাযথ গ্রেডেশন (মিশ্রণ) হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এছাড়া বিটুমিন ও পাথরের পরিমাণ কম দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।
এদিকে নির্মাণের সপ্তাহ পার হতেই গির্জা এলাকায় একটি গাড়ির চাপে উঠে গেছে কার্পেটিং। রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফেইসবুকেও পোস্ট করে প্রতিবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্কুলশিক্ষক প্রলয় সরকার টাবলু ওই রাস্তার কাজের অনিয়মের কয়েকটি ছবি তুলে ফেইসবুকে পোস্ট করলে অসংখ্য মানুষ সেখানে মন্তব্য করে এর প্রতিবাদ জানায়।
কুলপতাক গ্রামের ঝন্টু চন্দ্র দে, সুনীল দে এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি যিহিস্কেল বলেন, এ রাস্তার কাজ এতই নিম্নমানের হয়েছে, পায়ের ঘষাতে পিচ উঠে যাচ্ছে। কয়েক দিন গাড়ি চলাচল করলে পিচের অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যাবে না।
গত রবিবার সরেজমিন ওই সড়কে দেখা গেছে, ১৬ মিলি, ৩/৪ ও ৫/১০ আকারের পাথরের সঠিক মিশ্রণের (গ্রেডেশন) অভাবে রাস্তার মাঝে মাঝে ফাঁকা রয়ে গেছে।
মোহানগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চেছরাখালী থেকে কুলপতাক হয়ে বল্লবপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার (১৯৫০ মিটার) রাস্তায় কার্পেটিং করা হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দের এ কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শেখ হেমায়েত আলী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হেমায়েত আলীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে এ কাজটি করছেন নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক গাজী মোজাম্মেল হোসেন টুকু। মোহনগঞ্জে কাজ দেখভাল করছেন তার ভগ্নিপতি স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।
কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অভিযোগ হওয়ার কথা নয়। চুপিসারে কাজ করিনি। দায়িত্বে থাকা একজনসহ ছয়জন অফিসারের সামনে কাজ করেছি।’
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মোহনগঞ্জ উপজেলা অফিস সহকারী আমিনুল ইসলাম জানান, কাজ শেষ, বিলও হয়ে গেছে।
এলজিইডির উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস মিয়া বলেন, রাস্তার কাজের গুণগত মান ভালো হয়েছে, টেস্ট রিপোর্ট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কাজের বিল মনে হয় হয়নি। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, কাজের যতটুকু দেখেছি মান ভালোই হয়েছে মনে হয়েছে। কাজে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখব।
মোহনগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, স্থানীয় একজন ফোন করে রাস্তার অনিয়মের বিষয়টি জানিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গেই আমি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। তারপরও যদি কোথাও কোনো সমস্যা থাকে সুনির্দিষ্ট করে তথ্য দিলে অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখা হবে।
