৫৪৬ কিমি কাঁচা রাস্তায় কয়েক গ্রামবাসীর দুর্ভোগ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ১২:৫২ পিএম

জয়পুরহাট কালাই উদয়পুরের পাইকপাড়া, তেলিহার, ভাটাহারসহ গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দ্রগঞ্জের বাইবাস মাটির রাস্তা দিয়ে চরম দুর্ভোগে কাদার মধ্য দিয়ে চলাচল করছে কয়েকটি গ্রামের মানুষ।

এ দুর্ভোগে স্থবির হয়ে পড়েছে তাদের জনজীবন। ওই এলাকার ৩ কিলোমিটারেরও বেশি কাঁচা রাস্তাটি এখনো পাকা হয়নি। এই এলাকায় রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, কয়েকটি আদর্শ গুচ্ছগ্রামসহ নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও হাটবাজার। সরকারের ব্যাপক উন্নয়ন থাকলেও এই মাটির রাস্তা পাকা না হওয়ায় স্থানীয়দের অভিযোগের অন্ত নেই।

কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ভ্যান, অটোরিকশা ও শ্যালোচালিত ট্রলির চালকরা। মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। স্থানীরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বেচাকেনা করতে পারছে না।

এলাকাবাসী স্থানীয় ভ্যানচালক মাবিল ফকির আবেক নিয়ে বলেন, রাস্তা কাদোর কারণে ভ্যান চালাতে পারছি। ভ্যান বন্ধ করে ছোরব বাড়িত বসে আছি। চাল কিনা পারোছিনা ভাই। হামাক এনা সাহায্য করো, আল্লাহ তোমাগোরক ভালো করবে।

এমনি আক্ষেপ করে স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম, তোতা মিয়াসহ অনেকেই বলেন, হামাগেরে খুব সমস্যা, ধান-চাল বানাকোটা হওছেনা রাস্তার জন্য। তোমরা এনা রাস্তা ভালো করে দাও, বৌ-বাচ্চা লিয়ে খুব কষ্টে আছি। ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল কেউই বের করতে পারছে না। ছেলে-মেয়ের বিয়ে ঘর আসলে রাস্তা দেখে বিয়ে দিতে চায় না।

স্থানীয় উদয়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. ওয়াজেদ আলী ওই এলাকার মানুষদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, এ এলাকার রাস্তার কথা চিন্তা করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে যতটুকু সম্ভব রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করছি। পাইকপাড়া, তেলিহার, ভাটাহারের মত আরও প্রতিনিয়ত ১৫টি গ্রামে মানুষ কাদার মধ্যে চলাচল করছে। তবে এ এলাকার কাঁচা রাস্তাগুলো এলজিইডিতে আইডি ধরে দেয়া আছে। তারা ব্যবস্থা নিবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারছে না। এমনকি রাস্তার বেহাল দশায় ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে অনীহা দেখা দিচ্ছে।

এদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, আমাদের ৪ ক্যাটাগরিতে রাস্তা হয়। জেলায় ৭১১টি এলজিইডির রাস্তা আছে। এর মধ্যে ৫৪৬ কিলোমিটার রাস্তা এখনো মাটির কাঁচা আছে। এর মধ্যে তেলিহারের রাস্তাটি আইডি হয়েছে, ভাটাহারের রাস্তার আইডির ব্যাপারে মিটিং হয়েছে। জেলার অন্যান্য কিছু কাঁচা রাস্তা আইডি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে কাজ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত