পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নতুন প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ চান বিশেষজ্ঞরা

আপডেট : ০৫ জুন ২০২১, ০৮:১৮ পিএম

পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নতুন প্রজন্মকে সক্রিয় হতে হবে বলে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অনলাইন আলোচনায় বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। 

শনিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে  ডা. দিবালোক সিংহর সভাপতিত্বে ও বারসিকের প্রজেক্ট ম্যানেজার ফেরদৌস আহমেদের সঞ্চালনায় জুম অনলাইনে এ্ক আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।

ইউএস এইড এবং এফসিডিও এর অর্থায়নে এবং কাউন্টার পার্ট ইন্টারন্যাশনাল এর কারিগরি সহযোগিতায় ‘ঢাকাকলিং’ কনসোর্টিয়াম প্রকল্পের আওতায় বারসিক, ডিএসকে, কাপ ও ইনসাইট নামে চারটি সংগঠন অংশ নেয়।

ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে বৈষম্যের পাল্লাই ভারি হয়েছে। দেশটি বৈষম্যের দেশেই পরিণত হয়েছে। নগরের প্রান্তিক মানুষদের জন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই কিন্তু তাদের থাকতে হচ্ছে সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন জায়গায়। দেশে পরিবেশ সংরক্ষণের নানা আইন তৈরি হলেও তার সঠিক বাস্তবায়ন নেই। 

ডা. লেলিন বলেন, বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে মানে প্রতিবেশ ও পরিবেশের একেকটা অংশ ধ্বংস হচ্ছে । আর এগুলো ধ্বংস করছে মানুষ। আমাদের এখন দায়িত্ব হলো বিলুপ্তপ্রায়দের রক্ষা করা আর যেগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে সেগুলোকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা। মানুষকে ভালো থাকতে হলে তার চারপাশ ভালো রাখতে হবে।

শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন বলেন, করোনায় মেডিকেল বর্জ্য চারিদিক সয়লাব আর এগুলো দেখে মনে হচ্ছে দেখার কেউ নেই। আমরা দেখি নগরের যত্রতত্র ময়লার ভাগাড়, এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও দিনের পর দিন ময়লার ট্রাক পড়ে থাকে। আমাদের প্রাণ ও প্রকৃতির প্রতি সংবেদনশিলতা তৈরি করা জরুরি। আজকে গাছ কাটতে কোনো অনুমতি লাগে না আর তাই পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

কাউন্টারপার্ট ইন্টারন্যাশনালের সুলতান এস চাঁদ বলেন, আলোচনা আমাদের সমৃদ্ধ করেছে। অ্যাকাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি আমাদের বাস্তবায়নটাও অত্যন্ত জরুরি। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা প্রয়োজন। আইন ও নীতিগুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের আরো বলা প্রয়োজন আর নীতি ও কাঠামোর যে আইনি পরিবেশ রয়েছে তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নটাও অত্যন্ত জরুরি।

শিক্ষক দেবাশীষ কুন্ডু বলেন, আমাদের দেশে প্রকৃতপক্ষে নগরায়ন হয়নি, হয়েছে নগরউন্নয়ন। যার কারণে বুড়িগঙ্গাকে রক্ষা করা যায়নি, যায়নি এই নগরের প্রাণবৈচিত্র্যকে রক্ষা করতে। 

বস্তিবাসী নেত্রী হোসনে আরা বেগম রাফেজা বলেন, যারা বস্তিতে থাকি তাদের সবসময় বর্জ্যের মধ্যে জীবন কাটাতে হয়। আমরা চাই ময়লা-আবর্জনামুক্ত পরিবেশ।

মূল প্রবন্ধে পাভেল পার্থ বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, বনউজাড়, জলাভূমি ভরাট, বৃহৎ খনন, রাসায়নিক কৃষি নানাভাবে দেশের প্রাণ-প্রকৃতির বিকাশকে রুদ্ধ করছে। করোনা মহামারীকালে দুনিয়াব্যাপী এ উপলব্ধি আবার চাঙ্গা হয়েছে যে, প্রাণ-প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা ছাড়া এই গ্রহে সবার বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। মানুষসহ সব প্রাণসত্ত্বার জীবন বিকাশে স্থানীয় পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র প্রতিনিয়ত যে অবদান রাখছে আমরা এর হিসাব কষে দেখছি না। অথচ পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের এই বিনামূল্যের অক্লান্ত সেবার জন্যই আমরা বেঁচে আছি। 

এ সময় তিনি ঢাকাসহ সারা দেশের পরিবেশকে সুষ্ঠু করার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নীতির পরিবর্তন ও নগরের উদ্ভিদ-প্রাণীসহ সব বন্যপ্রাণের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন 

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন কাপের মাহবুবুল আলম, ইনসাইটস এর নিগার রহমান, ডিএসকের প্রজেক্ট ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম, ডব্লিউকেবি,র প্রতিনিধি ফারজানা ইয়াসমিন, শিক্ষক সোহেল রানা, ইয়ুথ লিডার বৈশাখী। 

আরো উপস্থিত ছিলেন বারসিকের নির্বাহী পরিচালক সুকান্ত সেন ও কাপের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রেবোক সান ইয়াত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত