৪ মাসে ১০০ কিলোমিটার হেঁটে ভারত থেকে বাংলাদেশে বাঘ

আপডেট : ০৭ জুন ২০২১, ০১:৩৭ পিএম

একেই বলে ‘বাঘের বাচ্চা’-চার মাসে তিনটি দ্বীপ, একাধিক নদী, বড় বড় জঙ্গল পার হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে এসেছে একটি পুরুষ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার!

গত বছরের শেষ দিকে পশ্চিমবঙ্গে সুন্দরবনের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গতিবিধি জানতে বাঘটির গলায় রেডিও কলার পরানো হয়। সেটি চার মাস ১৫ দিন বাদে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এখন বাংলাদেশে অবস্থান করছে।

বাঘটির গলায় থাকা রেডিও কলার থেকে মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত সংকেত পান ভারতের বন দপ্তরের কর্মকর্তারা। এরপর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাঘটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে কয়েক দিন ধরে ভারতীয় গণমাধ্যমে বেশ লেখালেখি হয়েছে।

আরও পড়ুন: আন্দামানের রহস্যময় দ্বীপে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া জাহাজ!

অনলাইন ফোরাম রেডিটে বাঘটির বিষয়ে আলোচনা করতে দেখা যায় ভারতের বনবিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ভিকে (বিনোদ কুমার) যাদবকে। তিনি সেখানে জানান, বাঘটি বাংলাদেশে চলে গেছে।

পরে আরও তথ্য ঘাটতে গিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় তার একটি সাক্ষাৎকার পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন।

যাদব জানান, গত বছর ২৭ ডিসেম্বর বাঘটির গলায় রেডিও-কলার পরানো হয়। পুরুষ লিঙ্গের এই বাঘ মূলত বাংলাদেশ অঞ্চলেই থাকত। বশিরহাট রেঞ্জের ঠিক বিপরীত দিকের হরিখালী এলাকা থেকে প্রাণীটিকে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় কর্মকর্তারা।

গত বছর সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ধরতে ধাওয়া কয়েকজন মৎস্যজীবী অতর্কিতভাবে বাঘের মুখে পড়েন। কারও কারও প্রাণও যায়। এরপর সুন্দরবনের বাঘের গতিবিধি জানতে বাঘের গলায় রেডিও কলার পরানোর উদ্যোগ নেয় ভারতের বন দপ্তর।

হরিখালি জঙ্গলে লোহার খাঁচায় একটি ছাগল রেখে বাঘ ধরার ফাঁদ পাতে বন দপ্তর। তাতেই আটকা পড়ে পুরুষ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।

খবর পেয়ে বিনোদসহ কয়েক জন কর্মকর্তা চলে আসেন। আটকা বাঘটিকে অজ্ঞান করে রেডিও কলার পরান। এরপর ৫ কেজি মুরগির মাংস খাইয়ে হরিখালি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি রেডিও কলারটি সরবরাহ করে ভারতের বন দপ্তর ও ডব্লিউডব্লিউএফ ইন্ডিয়া।

ঘরের ‘ছেলের’ ঘরে ফেরা: কলার পরানো অবস্থায় বাঘটি কয়েক দিন ভারতের জঙ্গলে ঘোরাফেরা করে। পরে সে তালপট্টি দ্বীপের দিকে যাত্রা শুরু করে। ছোট হরিখালি, বড় হরিখালি এমনকি রাইমঙ্গলও পাড়ি দিয়েছে সে। সর্বশেষ তার অবস্থান সম্পর্কে ১১ মে তথ্য পায় ভারত, তখন তার অবস্থান ছিল বাংলাদেশের তালপট্টি দ্বীপে।

এর আগে ২০০৭ থেকে ২০০৮ ও ২০১৬ সালে একাধিক বাঘকে এই রেডিও কলার পরানো হয়েছিল। কিন্তু সুন্দরবনের নোনা পানির কারণে সেটি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বাঘেরা নদী ও খালবিলে সাঁতার কাটার কারণে তা নষ্ট হয়ে যায়।

বাঘ কোন ধরনের জঙ্গলে থাকতে ভালোবাসে, কতক্ষণ ঘোরাফেরা করে, কতক্ষণ সাঁতার কেটে নদী পার হয়, কেন লোকালয়ে আসে-সেসব জানার উদ্দেশ্যে এটি পরানো হয়।

সরাসরি উপগ্রহের মাধ্যমে বন দপ্তরের কাছে সংকেত যায় এই রেডিও কলার থেকে।

বাঘের মৃত্যু হলেও রেডিও কলার থেকে বোঝা যায়। বিশেষ এক ধরনের সেনসরের মাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়ে তথ্য আসে। ১১ মে পর্যন্ত এই ধরনের সংকেত না আসায় ভারতীয় কর্মকর্তারা বলছেন, বাঘটি বেঁচেই আছে। মারা গেলে আগেই মারা যেত।

বিনোদ কুমার যাদবের ধারণা, ‘হয়তো কলারটি গলা থেকে পড়ে গেছে। অথবা নষ্ট হয়ে গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত