হোটেলের ৪০ কোটি টাকা দেবে ঢামেক হাসপাতাল

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ০২:০২ এএম

স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাবদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কাছে বিভিন্ন হোটেল মালিকদের ৪০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে । করোনা মহামারী চলাকালে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা ও খাবার সরবরাহ বাবদ এই পাওনা জমা হয়েছে। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ হোটেল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) ঢামেক হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন ও স্মারকলিপিতে ৪০ কোটি টাকা পাওনা থাকার দাবি করে। মানববন্ধনে ৩০টি হোটেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এদিকে ঢামেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, ‘চলতি মাসেই হোটেল মালিকদের বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে।’

করোনা সংক্রমণ শুরু হলে করোনা রোগীদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা ও খাবার সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয় বিভিন্ন আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষকে। হোটেল মালিকদের সংগঠন বিহা’র কো- চেয়ারম্যান খালেদ-উর-রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢামেক হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রতি ১০ দিন পরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিল জমা দেবে এবং ৭ কার্যদিবসের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল পরিশোধ করবে। গত বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহে আমাদের জুলাই মাসের বিল জমা দিই। পরে আগস্ট, সেপ্টেম্বরের বিলও জমা দিই। কিন্তু ঢামেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিয়ে ওই তিন মাসের বকেয়া টাকা আমরা (হোটেলগুলো) পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ২০২০-২০২১ অর্থবছর শেষ হয়ে যাচ্ছে ৩০ জুন। এর মধ্যে পাওনা টাকা পরিশোধ করা না হলে ঢামেক হাসপাতালের অনুকূলে বিগত অর্থবছরে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত চলে যাবে, আমাদের বিল পাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে যাবে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। আমাদের দাবিকৃত ন্যায্য বিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন হয়ে গেছে অথচ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে না। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বিল না পেলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বিহা’র কো-চেয়ারম্যান খালেদ। তিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র সরবরাহ করেছি। কিন্তু আমাদের প্রাপ্য বিল প্রদানের বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি। বিহা’র সদস্য হোটেলগুলোর কর্মীরা মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, চলতি মাসেই বকেয়া বিল পরিশোধ করা হবে। পদ্ধতিগত কারণে বিল দিতে আমাদের বিলম্ব হচ্ছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। এর আগেও গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয় নিয়ে তদন্ত করে দেখেছে।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, ‘হোটেল বিলের এই পরিমাণ বকেয়া টাকা সচিব মহোদয়ের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। তিনি ৫ কোটি টাকার বেশি অনুমতি দিতে পারেন না। এখন যেই পরিমাণ টাকা ব্যয় হয়েছে তা মন্ত্রিপরিষদের অনুমতি ছাড়া দেওয়া সম্ভব না। তাদের অনুমতি পেলেই হোটেল মালিকদের আমরা বিল দিয়ে  দেব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত