সাভারে গরু বহনকারী একটি পিকআপের চালক ও তার সহকারীকে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লায় এ ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পিকআপ চালক অনিক আহম্মেদ এ অভিযোগ করেন। তিনি সাভার পৌরসভার ছায়াবিথী এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম।
ভুক্তভোগী অনিক আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, কোরবানির পশু নামানের পর শুক্রবার রাত ২টার দিকে তিনি সাভারের উলাইল বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে দাঁড়ান। এ সময় সাদা একটি প্রাইভেটকার থেকে নেমে দুই ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেন। পরে তারা আমাকে ও আমার সহকারী ফজলুকে হাতকড়া পরিয়ে প্রাইভেটকারে উঠায় এবং ইয়াবা দিয়ে মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে। এ সময় প্রথমে আমাদের কাছে থাকা ১১ হাজার টাকা তাদের দিই। এ ছাড়া তাদের নির্দেশ মতো নগদ অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা পাঠাই। কিন্তু তারা আরো টাকা না দিলে ডাকাত সাজিয়ে গ্রেপ্তার দেখানোর ভয় দেখায়। পরে বাধ্য হয়ে আমার স্ত্রীকে ফোন করলে সে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পুলিশকে দিলে তারা আমাদের ছেড়ে দেন।
পিকআপের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে হয়তো কেউ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সাভার মডেল থানায় গেলে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে চিনতে পারেন অনিক। তাদের একজন এসআই আলমগীর হোসেন। অপরজন এএসআই আহসান হাবিব।
এদিকে যে নম্বরের অনিক নগদ এ্যাকাউন্টে দশ হাজার টাকা পাঠিয়েছে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেই নম্বরটি ব্যবহার করেন এসআই আলমগীরের সোর্স জাকির হোসেন। তবে জাকির ওই নম্বরে টাকা যায়নি বলে দাবি করলেও ট্রানজেকশনে দেখা গেছে, ওই নম্বরেই টাকা পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফোনে জানতে চাইলে সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন বলেন, সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারি অনিক ও ফজলু গরু চুরি চক্রের সঙ্গে জড়িত। শুক্রবারও তারা গুরু চুরির উদ্দেশ্যে উলাইল এলাকায় অবস্থান করছিল। এ সময় তাদের তল্লাশী করে চুরির সরঞ্জামাদি পাওয়ার কথা থাকলেও কিছুই পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানার স্বার্থে আমি কয়েকটা চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিই, কিন্তু কোনো টাকা লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। এ সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট উল্লেখ্য করে তিনি বলেন, তাদের মারার কারণেই আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছে।
তবে এএসআই আহসান হাবিব ঘটনার সময় তার ডিউটি ছিল না দাবি করে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
