খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম টার্মের চূড়ান্ত পরীক্ষা ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হবে। এতদিন পরে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে স্নাতক ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, এ বছর গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবে না। পরীক্ষা নেয়ার তারিখ আরো এগিয়ে নিলে এ বছরের মধ্যে দুই টার্মের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা যেতো।
পিএল ও রিভিউ ক্লাস কমিয়ে দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার আশায় তারা।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, অন্তত মডেল টেস্ট এবং প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলোর জন্য আলাদা করে ২১ দিন বরাদ্দ রাখার কোনো প্রয়োজন ছিল না।
শিক্ষার্থীরা জানান, স্নাতক চতুর্থ বর্ষের জন্য প্রশাসনের আলাদা একাডেমিক ক্যালেন্ডার করা উচিত। তারা দুবছর ধরে শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত। স্নাতক সম্পন্ন হয়নি বলে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, সরকারি-বেসরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছেন না। পরীক্ষা এ ক্যালেন্ডার মাফিক চললে এ বছরও তাদের স্নাতক সম্পন্ন হবে না।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, অক্টোবরের মধ্যেই ৪র্থ বর্ষের দুই টার্মের পরীক্ষা শেষ করার ব্যাবস্থা করা হোক। প্রয়োজনে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে অনলাইন/অফলাইনে পরীক্ষা নেয়া হোক। এতে করে চাকরির বাজারে বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারব।
এর আগে রবিবার রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ডিনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম টার্মের চূড়ান্ত পরীক্ষার ব্যাপারে কিছু সিদ্ধান্ত হয়।
পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রস্তুতি সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে চূড়ান্ত পরীক্ষার আগে অনলাইন/অফলাইন পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ ও মডেল টেস্টও অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে প্রথম টার্মের রিভিউ ক্লাস চলবে ১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট, অনলাইন/অফলাইন পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ হবে ১৬ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট, মডেল টেস্ট ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর, দ্বিতীয় দফায় রিভিউ ক্লাস ৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর, পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রস্তুতিমূলক ছুটি (পিএল) ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর, প্রথম টার্মের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ ১৭ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সচিব রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস পরীক্ষা সিদ্ধান্ত কোনোভাবে এগিয়ে নিয়ে আসা যায় কি না এ ব্যাপারে বলেন, ডিনদের নিয়ে পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে । যদি এরকম কিছু ভাবার প্রয়োজন হয় তবে সবাই মিলে চিন্তা ভাবনা করব। এ মুহূর্তে এককভাবে কিছু বলতে পারছি না।
আইন ডিসিপ্লিন দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাফসা বিনতে আয়ুব বলেন, করোনাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ সময়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ক্লাস শেষ করেছিল। এক্ষেত্রে রিভিউ ক্লাস ও পিএল সব মিলে দ্রুততম সময়ে প্রথম টার্ম শুরু করলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমত আমার ধারণা। অন্যথায় ৩০ নভেম্বর যদি প্রথম টার্ম পরীক্ষা শেষ হয় তবে সেকেন্ড টার্ম শেষ হতে ২০২২ সাল হয়ে যাবে, এতে সেশনজট বাড়বেই। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ ও মডেল টেস্টের জন্য বরাদ্দ সময়কে অনেকটা কমিয়ে আনা গেলে আমাদের জন্য ভালো হতো, যেহেতু আমরা প্রায় দুটি টার্ম অনলাইনে শেষ করেছি, তাই অনলাইন পদ্ধতিতে বেশ ধারণাও লাভ করেছি ইতিমধ্যেই। সর্বোপরি চলমান বছরেই যাতে দুই টার্মের পরীক্ষা শেষ করে পরবর্তী টার্ম শুরু করতে পারি প্রশাসন এই বিষয়ে দ্রুততম পদক্ষেপ নেবে আশা করি।
বিশ্ববিদ্যালের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ বলেন, এই বছরেই দুই টার্ম শেষ করতে চাই। খুবই হতাশায় ভুগছি। দ্রুত পরীক্ষা শেষ করতে চাই। কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চাই, পরিবারের বোঝা না হয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চাই। অতিদ্রুত আমাদের পরীক্ষাগুলো নেয়া হোক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এভাবে আমাদের গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগে যাবে ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হাসান লিমন বলেন, সিদ্ধান্তটা সামগ্রিক সব শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নেয়া হয়েছে। যেহেতু অনেক শিক্ষার্থী প্রত্যন্ত অঞ্চলে রয়েছে, তাদের এ পরীক্ষার পদ্ধতিতে মানিয়ে নিতে সময় লাগবে। আর আমাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডারনুসারে সব বর্ষের পরীক্ষা একসঙ্গে নেওয়া হয়। সেজন্য সব বর্ষের পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষা পদ্ধতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার একটা প্রক্রিয়া আছে। এসব দিক বিবেচনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্নাতক ৪র্থ বর্ষের আলাদা পরীক্ষা নেয়ার পরামর্শ তিনি বলেন, আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
