জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. বেনজীর আহমেদ।
রবিবার দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আইজিপি।
এ সময় বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে একে একে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম, র্যাব মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, ঢাকা রেঞ্জ, বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এদিকে রবিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।
'শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ' স্লোগানে (রবিবার) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে পুনাক কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যা কে জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে পৈশাচিক ও নারকীয় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়নি, বরং যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি নবীন রাষ্ট্রের এক অসাধারণ পথচলাকেও থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সপরিবারে খুন হন তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে অন্য অনেকে উপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন পুলিশের এক অকুতোভয় সদস্য এএসআই সিদ্দিকুর রহমান। তিনি সেদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ঘাতকদের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।
পুনাক সভানেত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যেমন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বীর পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশেকে স্বাধীন করতে পুলিশ সদস্যরাই সর্বপ্রথম বুক পেতে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের সামনে।
তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে সেই সংগঠন যার সদস্যরা কখনো এ দেশের সঙ্গে, এ দেশের ইতিহাসের সঙ্গে বেইমানি করেনি।
পুনাক সভানেত্রী বলেন, এএসআই সিদ্দিকুর রহমানের এ অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে তাকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম সাহসিকতা (মরোণোত্তর) প্রদান করেন। এ মহতি উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
অনুষ্ঠানে পুনাকের অন্যান্য নেত্রীবৃন্দও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
এর আগে দোয়া মাহফিল শেষে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যসহ নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
