নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন এবং সেই দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন নির্যাতিতা নারী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারক জয়নাল আবেদিন মামলার বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এর আগে গত ২৪ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু জানান, এ মামলার ১৩ আসামির মধ্যে প্রধান আসামি নূর হোসেন বাদলসহ ৯ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলার আরও ৪ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে। বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর আদালত আগামী ২৩ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ লাবলু।
বাদী পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট জসিম উদ্দিন বাদল।
এদিকে বৃহস্পতিবার আদালতে বাদীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আসামিদের ভিডিও ধারণ করতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হয় আসামিরা। পুলিশের উপস্থিতিতে আদালতের বারান্দায় তারা গণমাধ্যমর্কীদের দিকে জুতো হাতে নিয়ে তেড়ে আসে এবং অশালীন ভাষায় গালাগাল করে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর সাবেক স্বামী ২০২০ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে তার সঙ্গে দেখা করতে তার জয়কৃষ্ণপুর বাবার বাড়ি গ্রামে আসেন। এ সময় স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন ওরফে দেলু রাত ১০টার দিকে তার বাহিনী নিয়ে গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেন। তারপর গৃহবধূকে নির্যাতন করে বিবস্ত্র করে ভিডিওচিত্র ধারণ করে। এরপর গত ৪ অক্টোবর বিবস্ত্র ও নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ফেসবুকে ভাইরাল হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
উল্লেখ্য, বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নে নারীকে নির্যাতন করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় অভিযুক্ত ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ মামলার বর্তমান আসামি ১৩ জন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা নির্যাতন ও ধর্ষণ চেষ্টার মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়।
