মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমান দেশের কোথাও কখনো সরাসরি যুদ্ধ করেননি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২১, ০৮:১৫ পিএম

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তযুদ্ধের সময় দেশের কোথাও কখনো সরাসরি যুদ্ধ করেননি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান দেশের কোথাও কখনও সরাসরি যুদ্ধ করেননি এবং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে জিয়া খন্দকার মোশতাকের ক্ষমতার উৎস ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান জেলের ভেতর জাতীয় চার নেতা হত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব বলেন।

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সেখানে জিয়াউর রহমানের লাশ নেই, সেটা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানার পরও কেন তারা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

তিনি বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি (পুলিশের সঙ্গে) সংঘর্ষে জড়িয়েছিল। বিএনপি কি জানে না যে, সেখানে জিয়ার কবর বা কবরে জিয়ার লাশ নেই? যদি তাই হয়, তাহলে তারা এই নাটক কেন করে? খালেদা জিয়া তা ভাল করেই জানেন।’
খালেদা জিয়া অথবা তারেক জিয়া জিয়াউর রহমানের লাশ দেখেছিলেন কিনা প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাস্তবতা হলো বুলেটে জর্জরিত লাশও সহজেই শনাক্ত করা যেত। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে যে বাক্সের মধ্যে লাশ আনা হয়েছিল সে বাক্সের মধ্যে কেউ জিয়ার লাশ দেখতে পায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সেই সময় এইচ এম এরশাদের কাছ থেকে শুনেছেন যে, বাক্সের মধ্যে যে লাশটি ছিল তা সামরিক পোশাক পরিহিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু জিয়া সে সময় রাষ্ট্রপতি ছিলেন। আর রাষ্ট্রপতি কখনো সামরিক পোশাকে থাকেন না।

তিনি জানতে চান, ‘বিএনপির নেতাকর্মীরা কি জানেন না যে, রাষ্ট্রপতি সামরিক পোশাক পরিধান করেন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মনে করেছিল যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে কিছু স্থানীয় সহযোগিদের সহায়তায় হত্যা করতে পারলেই দেশের স্বাধীনতা নস্যাৎ হয়ে যাবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাদের খান, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল ও উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান মতি, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন ও উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা।

সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

পরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত