দোকানে বেশি বেচাকেনার ঈর্ষা থেকেই ছয়জনের কিলিং মিশনের হাতে নির্মমভাবে খুন হন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার গুল্টা বাজারের ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন (৪০)।
মতিন হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন করে রবিবার দুপুরে পিবিআই সিরাজগঞ্জের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।
তিনি আরও জানান, গত ১৫ জুন দিবাগত রাতে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার পর গুল্টা বাজার দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শৌচাগারে ঘাতকরা লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরদিন ১৬ জুন সকালে শিশুরা ওই বিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে লাশ পরে থাকতে দেখে বাজারের লোকজনদের জানায়।
পরে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ক্লুলেস লাশ উদ্ধারের পর ঘটনা তদন্তের ভার সিরাজগঞ্জ পিবিআইকে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ চেষ্টার পর পিবিআই এর হাতে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে আরিফুল ইসলাম (৩১) ও নিরঞ্জন তির্কী (৪৭) নামে দুই ব্যবসায়ী এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, ছয়জনের একটি টিম পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এই কিলিং মিশনে অংশ নেয়। এদের মধ্যে একজন তাকে দোকান থেকে বের করে।
দুই/তিনজন পাহারায় থাকে, অপর দুইজন মতিনকে মাথায় আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ওই বিদ্যালয়ের শৌচাগারে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।
এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পিবিআইয়ের কাছে দেওয়ার পর মতিন হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় আমিরুল ও নিরঞ্জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
তিনি আরও জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।
