ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় শহীদ স্মৃতি সরকারী কলেজের সার্টিফিকেট কক্ষের ছিনিয়ে নেওয়া চাবি উদ্ধার করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির মোল্লা জোর করে অধ্যক্ষের কাছ থেকে চাবিটি ছিনিয়ে নেন।
বুধবার বিকালে চাবিটি উদ্ধার করেন ইএনও অফিসার রুমানা আক্তার।
অভিযোগ রয়েছে, হুমায়ুন কবির মোল্লার বিরুদ্ধে সহকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন। ভাইস প্রিন্সিপাল না হয়েও তিনি জোর করে কলেজের ভাইস প্রিন্সিপালের কক্ষ দখল করে ব্যক্তিগত অফিস হিসেবে ব্যবহার করছেন। তিনি স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় তার ভয়ে অন্যান্য শিক্ষকরা তটস্থ হয়ে থাকেন। এক প্রভাষককে হেনস্থা করায় হুমায়ুন কবির মোল্লার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রভাষক।
কলেজের কয়েকজন অধ্যাপকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছাত্রছাত্রীদের সার্টিফিকেট, মার্কশিট, বেতন আদায়ের রসিদ বই, নগদ টাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র একটি কক্ষে রাখা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে অধ্যাপক হুমায়ুন কবির মোল্লা কলেজের অধ্যক্ষ আবু জামালকে ওই কক্ষের চাবি দিতে বলেন। কিন্তু অধ্যক্ষ চাবি দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান। অধ্যক্ষকে গালমন্দ করে মারতে উদ্যত হন। এ সময় কয়েকজক অধ্যাপক এগিয়ে এসে অধ্যক্ষকে রক্ষা করেন।
পরে অধ্যক্ষ আবু জামাল বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ইউএনও রুমানা আক্তারকে জানান।
ইউএনও রুমানা আক্তার বুধবার দুপুরে অধ্যাপক হুমায়ুন কবির মোল্লাকে ডেকে নিয়ে চাবি ফেরত দিতে বলেন। পরে তিনি চাবি ফেরত দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রভাষক জানান, হুমায়ুন কবির মোল্লা অন্যান্য অধ্যাপকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। রাজনীতি ও স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি সহকর্মীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন।
এ ব্যপারে কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক ও নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি ফয়জুন্নেসা লিজা বলেন, কলেজে জাতীয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে আমি মঞ্চ বসায় তিনি (হুমায়ুন কবির) আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন এবং আমাকে জোরপূর্বক মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেন। আমি প্রতিবাদ করায় তিনি এলাকা থেকে লোকজন এনে আমাকে নাজেহাল করেন। এ বিষয়ে আমি থানায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
অভিযুক্ত হুমায়ুন কবির মোল্লা জোর করে চাবি নেওয়ার কথা অস্বীকার করে সাক্ষাতে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান।
কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবু জামাল বলেন, তিনি জোর করে আমার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট রাখার কক্ষের চাবি ছিনিয়ে নেন এবং আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন।
ইউএনও রুমানা আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি তাকে চাবি ফেরত দিতে বলি। পরে তিনি চাবি ফেরত দেন। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
