কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে দেশের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো গত বছর ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের বাইরে থাকলেও শিক্ষার্থীদের পরিশোধ করতে হচ্ছে আবাসন ফি।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পর তাদের বাড়িতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে অনলাইনে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বিভিন্ন বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষার ফি মওকুফ করা হয়েছে। তবে ভর্তি ও শিক্ষাবৃত্তিসহ নানা কারণে তাদের হল ক্লিয়ারেন্সের দরকার পড়ছে। এ ক্ষেত্রে বিগত মাসগুলোর হল ফি পরিশোধ না করলে ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হচ্ছে না। গত ১৮ মাস হলে না থেকেও দিতে হচ্ছে ফি। এতে বিপাকে পড়েছেন তারা। তাই আবাসন ফি মওকুফ করার কথা বলছেন শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি হলে আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছেন ১২ হাজার ৮৫৪ জন। এ শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে মাসে ২০ টাকা হারে আবাসন ফি আদায় করা হয়। অর্থাৎ বছরে ২৪০ টাকা করে আদায় করা হয় ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৯৬০ টাকা। যার পরিমাণ বন্ধের ১৮ মাসে দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৪০ টাকা। এখন হলে ক্লিয়ারেন্সের জন্য গেলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে নেওয়া হচ্ছে আবাসন ফি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৪৪তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন রিপন বলেন, ‘মাস্টার্সে ভর্তির জন্য হলে গেলে বিগত মাসগুলোর ফি চাওয়া হয়। কিন্তু আমরা এতদিন হলে ছিলাম না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফি মওকুফের কোনো নির্দেশনা না থাকায় হল কর্তৃপক্ষ ফি আদায় করছে। এ টাকার পরিমাণ কম হলেও সেটি মওকুফ করা দরকার।’
ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ‘প্রায় ১৮ মাস ধরে শিক্ষার্থীরা হলের বাইরে রয়েছেন। এ অবস্থায় আবাসন ফি আদায় সম্পূর্ণ অনৈতিক। এ ফি আদায় বন্ধ করে যাদের কাছ থেকে এরই মধ্যে ফি আদায় করা হয়েছে তাদের টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ও বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ফি মওকুফের দাবি করলে এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
