সুনামগঞ্জে নির্মাণের এক মাসেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে ধস

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১১ এএম

মুজিবর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হাইয়ের কথায় ঘর নির্মাণে বালু-সিমেন্ট কিনতে হয়েছে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের টাকা খরচ করে।

ঘর নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে গতকাল বুধবার দুপুরে শহরের আলফাত স্কয়ারে রঙ্গারচর ইউনিয়নের উপকারভোগীদের আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে স্থানীয়দের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা অংশ নেন।

বিরামপুর গ্রামে গত সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, উপহারের ২৫টি ঘর নির্মাণের এক মাস পরেই কোনো কোনো ঘরের পিলার ভেঙে পড়েছে, ধসে পড়েছে ঘরের মেঝে, ঘরে বাঁশের ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক ঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে, দরজা-জানালা ভাঙা।

ওই গ্রামের জালু মিয়া বলেন, ‘ঘর পেতে নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা দিয়েছি। এরপরও ঘরে উঠতে পারিনি, পুরো ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে।’ একই গ্রামের সিরাজুল হক বলেন, ‘২০২০ সালের শেষের দিকে চেয়ারম্যান আবদুল হাই জানান, ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এসেছে। আমাদের বালু ও পাথর কিনতে হবে। আমরা অনেকেই ৪০ হাজার, কেউ ৪৫ হাজার টাকা করে দিয়েছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা কুরবান আলী বলেন, ‘আমি নিজ খরচে ঘর নির্মাণস্থলে মাটি ভরাট করেছি। অথচ ঘরের অবস্থা নাজুক হওয়ায় যেকোনো সময় তা ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাই বলেন, ‘উপহারের ঘর নির্মাণে আমার সম্পৃক্ততা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস গৃহনির্মাণ করেছে। যারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, তাদের গৃহ নির্মাণের সময় তখনকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বিমত পোষণ করে বলেছিলেন, নতুন মাটিতে গৃহনির্মাণ করা যৌক্তিক হবে না, উপকারভোগীরা তখন ভিটায় নিজেদের খরচে বিম তৈরি করেছিল। আমার নির্বাচনী প্রতিপক্ষ এই মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে।’

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, দ্রুতই এসব ঘর মেরামত করে দেওয়া হবে আর মুজিববর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ৪ হাজার ২৬৬টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর নির্মাণে টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। যদি কেউ এসব ঘর নির্মাণে অনিয়ম বা কেউ টাকা নেয় তাহলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত