হলিউডের নামি স্টুডিও’র সঙ্গে অনেক দিন ধরে কাজের অভিজ্ঞতা ওয়াহিদ ইবনে রেজা। স্পেশাল ইফেক্টস ও অন্যান্য বিষয়ে তার কাজকারবার। নিজেও নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র। একাধিক মনোনয়ন ও পুরস্কারের তালিকায়ও এসেছে তার নাম।
বৃহস্পতিবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লজ্জা’ পাওয়ার একটি বিষয় উল্লেখ করলেন। যা কিনা বাংলাদেশি মিডিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেখানে প্রায়ই ওয়াহিদকে ‘বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত’ বলে উল্লেখ করা হয়। অথচ তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়েই আছেন বাংলাদেশি। সে প্রসঙ্গে এলো মজার একটি ঘটনা।
তিনি লেখেন, “স্পাইডারম্যান নো ওয়ে হোমে’ কাজ করছি শোনার পর এবার একটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার হলো। অনেকে বলা শুরু করলেন আমি নাকি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত! বাংলাদেশে জন্ম ও মানুষ হওয়া আমার জন্য ব্যাপারটা যথেষ্ট লজ্জার। প্রথমে ভাবছিলাম কিছু বলবো, কিন্তু তখনই মনে পড়লো একটা ঘটনা।”
কী সেই ঘটনা?
ওয়াহিদ ইবনে রেজা লেখেন, “তখন নতুন নতুন মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। মনের দুঃখে আমি লম্বা দাঁড়ি রেখে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কীভাবে যেন একটা পাগড়ি জোগাড় করে ফেললাম। বেগুনি রঙের চূর্ণী কাপড়ের পাগড়ি। গম্ভীর মুখে আমি তখন ঢাকার রাস্তায় সাদা পায়জামা পাঞ্জাবিটা সঙ্গে লম্বা দাঁড়ি নিয়ে সেই পাগড়ি পরে ঘুরে বেড়াতাম।
বনানী ১১ নম্বরে আমার গাড়ি পুলিশ আটকালো। পুলিশ ভাই গাড়ির পেছনে আমাকে দেখে খুব সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলেন। তারপর গলা নামিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন,
-ভাই কি দেশি?
আমি পাল্টা গম্ভীর গলায় উত্তর দিলাম,
-না, ফার্মের!
আমি যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত না, তা প্রমাণ করার জন্য ভাবলাম আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে একটা ছবি তুলি। এই সপ্তাহে আবার আমার কানাডায় কাজের ৯ বছর পূর্তি হলো! ৯ বছরে স্যুটসের সেই প্রথম ইন্টার্নশিপ থেকে শুরু করে এখন ‘নো ওয়ে হোম’, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে জার্নিটা আল্লাহর রহমতে খারাপ হয় নাই, কি বলেন?”
হলিউডে ওয়াহিদের কাজ করা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে— ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান : ডন অব জাস্টিস, ক্যাপ্টেন আমেরিকা : সিভিল ওয়ার, নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম : সিক্রেট অব দ্য টুম্ব, ফিউরিয়াস সেভেন, অ্যাংরি বার্ডস টু, গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম-২, ডক্টর স্ট্রেইঞ্জ, হোটেল ট্রানসিলভানিয়া এবং ফিফটি শেডস অব গ্রে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি করছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য এনিমেশন ছবি বানাচ্ছেন তিনি।
