গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় সরকারি বিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরপর তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।
উপজেলার ৪নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না বলেন, ‘১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনে ওই ছাত্রী এলেও তার মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। বাড়ি ফিরে তার জ¦র আসে। গত বৃহস্পতিবার নমুনা দিলে পরদিন রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বিষয়টি জানানোর পর তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিন বন্ধ রাখার জন্য বলেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।’ তিনি বলেন, ‘ওই ছাত্রীর মাও করোনায় আক্রান্ত। প্রাথমিকভাবে সে পরিবার থেকে আক্রান্ত হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।
অভিভাবক আসমা বেগম ও সাইদুর সিকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সন্তানদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমরা চাই না দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জেরে বিদ্যালয় বন্ধ থাকুক। আমরা সন্তানদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অর্পিতা ম-ল বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করাচ্ছি। একজন আক্রান্তের খবরে কোনো অভিভাবকের মধ্যে আতঙ্ক দেখা যায়নি। এখানে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার সন্তোষজনক।’ উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুন কুমার ঢালী বলেন, ‘এক ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত জানার পর আমরা ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছি। সার্বক্ষণিক ওই ছাত্রীর খোঁজখবর নিচ্ছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুশান্ত বৈদ্য বলেন, ‘আক্রান্ত শিক্ষার্থী হোম আইসোলেশনে রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং সুস্থ রয়েছে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ‘উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান চলছে। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছি। কোনো শিক্ষার্থীর শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্ট পজিটিভ এলে আমরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণি অথবা বিদ্যালয় বন্ধ করে দেব।’
