মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের সংঘর্ষে জনশূন্য শহর

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৫ পিএম

মিয়ানমারের শিন রাজ্যের থান্টল্যাং শহরের প্রায় আটহাজার বাসিন্দা পালিয়ে গেছেন। সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গত এক সপ্তাহে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিসির এক প্রতিবেদন।

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে। এর পর থেকেই সেখানে বিক্ষোভ ও সেনাশাসন বিরোধী কর্মসূচি পালন করে আসছে বিদ্রোহী নাগরিকেরা। সর্বশেষ সেনাবাহিনী ও মিলিশিয়া বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে শিন রাজ্যের থান্টল্যাং শহরের প্রায় আটহাজার বাসিন্দা পালিয়ে গেছেন।

এই বাসিন্দারা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে প্রfথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে জানিয়েছে, শিন রাজ্যের থান্টল্যাং শহরে প্রায় ২০ টি বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক সেনাবাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন।

বাস্তুচ্যুতদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠন ‘থান্টল্যাং প্লেসমেন্ট অ্যাফেয়ার্স কমিটি’র মুখপাত্র সালাই লিয়ান দাবি করেছেন, সামরিক বাহিনী শহরে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নাগরিকদের গুলি করছে যার ফলে মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে।

ওই শহরের নাউকে নামের একজন বাসিন্দা বলেন, শহরের প্রায় শতভাগ বাসিন্দাই পালিয়ে গেছে। যারা সেনাশাসনের বিরোধিতা করেননি তারাই কেবল শহরে থাকতে পারছেন।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের সুশীল সমাজের একজন প্রতিনিধি রয়টার্সকে জানান, গত এক সপ্তাহে মিজোরামের দুই জেলায় মিয়ানমার থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ ঢুকেছেন।

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক থমাস অ্যান্ড্রুজ জানান, থান্টল্যাংয়ে যে অবস্থা তাকে ‘জীবন্ত নরক’ বলা চলে।

গত আগস্টে জেনারেল মিন অং হ্লিয়াং নিজেকে মিয়ানমারের প্রধানমন্ত্রী বলে ঘোষণা করেন। তিনি সেসময় ‘জরুরি অবস্থা’ বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর দেশটির এক হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া আটক করা হয়েছে ছয় হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিককে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত