ফেসবুককে রোহিঙ্গা নির্যাতনের ছবি প্রকাশের নির্দেশ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৫৫ পিএম

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতার ছবি পোস্ট করা যেসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর রেকর্ড প্রকাশ করতে ফেসবুককে নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।

ওয়াশিংটন ডিসির আদালতের একজন বিচারক গতকাল এ সংক্রান্ত একটি রুল দিয়েছেন বলে।

রুলে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধের জন্য মিয়ানমারকে বিচারের মুখোমুখি করতে তদন্তকারীদের তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ফেসবুকের সমালোচনা করেছেন বিচারক।

এর আগে, ব্যবহারকারীর তথ্য প্রকাশ করাকে মার্কিন আইনের লঙ্ঘন উল্লেখ করে সেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল ফেসবুক।

তবে ফেডারেল আদালতের বিচারক বলেন, মুছে ফেলা পোস্টগুলো প্রকাশ করা আইনের লঙ্ঘন হবে না বরং ওই কনটেন্টগুলো শেয়ার না করা হলে ‘রোহিঙ্গাদের উপর ঘটে যাওয়া ট্র্যাজেডিকে আরও ঘনীভূত করবে’।

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘তারা এর আগেই এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী ইতিমধ্যে মিয়ানমারের বিষয়ে জাতিসংঘের আরেকটি স্বাধীন তদন্ত সংস্থার কাছে স্বেচ্ছায় ও আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য প্রকাশ করেছেন’।

২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সে সময়ে নিরীহ রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা ও নির্যাতন এবং গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার রেকর্ড বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কাছে আছে।

গাম্বিয়া মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা সংঘটনের অভিযোগ এনেছে এবং হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিচারকাজ পরিচালনা করতে তথ্য চেয়েছে।

২০১৮ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার অনুসন্ধানকারী দলের একজন সদস্য জানান, ওই ঘটনায় ফেসবুক বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে যা সহিংসতাকে উস্কে দিয়েছে।

গতকালের রায়ে মার্কিন বিচারপতি জিয়া এম ফারুকী বলেন, ‘ফেসবুক “গণহত্যার প্ররোচনা” দেয় এমন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলে প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু সেগুলো শেয়ার না করে “ভুল” করেছে। ওই কনটেন্টগুলো সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ না করলে কীভাবে গুজব রটিয়ে রোহিঙ্গা গণহত্যার সৃষ্টি হলো তা অজানাই থেকে যাবে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত