দুই কোরিয়ার মধ্যে কৌশলগত যুদ্ধ চলছে প্রায় অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন তার ভাষণে কোরিয়ান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির আহ্বান পুনরায় জানান। প্রায় ৭১ বছর ধরে চলা দ্বন্দ্বের অবসান চান তিনি। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও জাতিসংঘের অধিবেশনে বলেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির কারণে আশপাশে যে সংকট তৈরি হচ্ছে তা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র ‘টেকসই কূটনীতি’ প্রত্যাশা করে।
দেশে ফিরে, শুক্রবার মুন বলেন, আশা করি পিয়ংইয়ং তাদের স্বার্থেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপে বসবে।
তবে, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ শুক্রবার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি থাইয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কোরিয়ান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির আহ্বান বালকসুলভ কেননা এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘মার্কিন বৈরী নীতি’ প্রত্যাহারের কোন সম্ভাবনা নেই। সেখানে আরও বলা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত ডিপিআরকের আশপাশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে, ‘মার্কিন শত্রুতা নীতি’র পরিবর্তন হবে না, ততক্ষণ কোন আলোচনাই ফলপ্রসূ হবে না।
একই মন্তব্য করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন। শুক্রবার তিনি বলেন, কোরিয়ান যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক অবসান প্রস্তাব নিশ্চয় ‘প্রশংসনীয়’ তবে সিউলকে প্রথমে পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি বৈরিতা নীতি তুলে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘ডাবল ডিলিং স্ট্যান্ডার্ড, পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈরী নীতি থেকে সরে না এসে এই ধরনের আহ্বানের কোন মানে হয় না। যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য একে অপরের প্রতি সম্মান বজায় রাখা উচিত।’
চলতি মাসে উত্তর কোরিয়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে একটি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যটি স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুন পিয়ংইয়ংয়ের সাম্প্রতিক উৎক্ষেপণকে ‘উসকানিমূলক’ বলে অবিহিত করেন। তবে, তারাও গত সপ্তাহে একটি সাবমেরিন ব্যালিস্টিক মিসাইলের (এসএলবিএম) উৎক্ষেপণ করেন।
এদিকে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষকের প্রধান চলতি সপ্তাহে জানান, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোদমেই চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা, সংলাপের জন্য মার্কিন উদ্যোগকেও প্রত্যাখ্যান করেছে।
